“যাঁরা টেনে নিচে নামাতে চেয়েছেন, তাঁরাই ঘুরে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন!” দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রায় বিস্ফোরক মোদী

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। দেখতে দেখতে ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর শীর্ষ প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে সফলভাবে ২৫ বছর পূর্ণ করলেন তিনি। এই ঐতিহাসিক রূপালী জয়ন্তী উদযাপনে বিজেপির ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অন্তর্গত ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’য় নিজের দীর্ঘ জীবনের চড়াই-উতরাই, শিক্ষা ও সংগ্রামের গল্প তুলে ধরলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতেই মোদী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, “সেবাই আমার জীবনের পরম ধর্ম। আমি বিশেষ কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার দাস হয়ে নয়, বরং দেশের সেবা করার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়েই বেঁচে থাকি।”
“চিরন্তন ছাত্র হিসেবে প্রতিদিনই নতুন কিছু শিখি”
নিজের দীর্ঘ যাত্রার স্মৃতিচারণ করে ৭৬ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০১ সালে গুজরাটের দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি যে একদিন এমন এক ঐতিহাসিক মাইলফলকে পৌঁছাতে পারবেন। দেশবাসীর ভালোবাসা, কোটি কোটি দলীয় কর্মী ও এনডিএ (NDA) সহযোগীদের সমর্থনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
নিজের গ্রাম ভাটনগরে কাটানো ছোটবেলার স্মৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্কুলজীবনে শেখার প্রতি যে তীব্র আগ্রহ ছিল, তা আজও এত বছর পর একইভাবে অটুট রয়েছে। নিজেকে আজও একজন চিরন্তন ছাত্র মনে করি এবং প্রতিদিন নতুন কিছু না কিছু শেখার চেষ্টা চালিয়ে যাই।”
সমালোচকদের বিশেষ ধন্যবাদ ও জীবনের অনন্য পাঠ
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনে ভক্ত ও সমর্থকদের পাশাপাশি কট্টর সমালোচকদেরও বিশেষ ধন্যবাদ জানান মোদী। তাঁর কথায়, “যাঁরা আমাকে কিছু শেখাতে চেয়েছেন, তাঁরা আমাকে বিনয়ী হতে শিখিয়েছেন। আর যাঁরা আমাকে টেনে নিচে নামাতে চেষ্টা করেছেন, তাঁরা শিখিয়েছেন কঠিন পরিস্থিতি থেকে কীভাবে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। অনুগামীরা আমাকে সবসময় উৎসাহিত করেছেন, আর সমালোচকরা আমাকে শিখিয়েছেন নিরপেক্ষ আত্মদর্শন করতে।”
জীবনের প্রতিটি প্রশাসনিক ও জাতীয় সংকটকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “আমার জীবনের কোনো অভিজ্ঞতাই বৃথা যায়নি, প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে জীবনের বড় পাঠ দিয়েছে। ২০০১ সালের ভুজের ভয়াবহ ভূমিকম্প আমাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনর্নির্মাণের লড়াই শিখিয়েছে। চন্দ্রযানের প্রাথমিক ব্যর্থতা শিখিয়েছে নতুন করে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জেদ। করোনা মহামারী বুঝিয়েছে দেশের গণচেতনার শক্তিকে। আর প্রচার মাধ্যম বা মিডিয়া আমাকে টক-মিষ্টি অনুভূতির অভিজ্ঞতা নিয়ে সুভারসাম্য রেখে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে।”
প্রতিটি আঘাত তাঁকে ধৈর্যশীল করেছে এবং প্রতিটি বড় অর্জন তাঁকে দেশের জন্য আরও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে বলে স্পষ্ট জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।