“মাছ কাটা তোদের কাজ, হাত কাটা আমাদের!” সপা নেতার চড় মারাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশে জাতিয় সংঘর্ষের জিগির!

উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে সমাজবাদী পার্টির (SP) একটি প্রেস কনফারেন্সে সামান্য চেয়ারের বচসাকে কেন্দ্র করে ঘটা একটি চড় মারার ঘটনা এখন গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে। গোরখপুরের সেই থাপ্পড়ের রেশ এবার সরাসরি পৌঁছে গেছে রাজধানী লখনউ পর্যন্ত। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোরখপুরে চরম জাতিগত মেরুকরণ ও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ঠিক কী নিয়ে এই বিবাদ?
কিছুদিন আগে সমাজবাদী পার্টির একটি সংবাদ সম্মেলনে চেয়ার টানাটানি ও বচসার জেরে প্রাক্তন সপা নেতা অংশুমান সিংয়ের ছেলে রামনাগিনা সাহনিকে প্রকাশ্যে চড় মারা হয়। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করে অখিলেশ যাদবের দল অংশুমান সিংকে বহিষ্কার করে এবং জেলা কার্যনির্বাহী কমিটি ভেঙে দেয়। রামনাগিনার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অংশুমান ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করে। পুলিশের এই পদক্ষেপের পরেই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে নামে ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়।

ডঃ সঞ্জয় নিষাদের বিতর্কিত মন্তব্য ও হুঙ্কার
এই ঘটনার জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন নিষাদ পার্টির সভাপতি তথা ইউপি সরকারের মন্ত্রী ডঃ সঞ্জয় নিষাদ রামনাগিনা সাহনির সমর্থনে মাঠে নামেন। তিনি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেন যে, যাঁরা চড় মেরেছেন তাঁদের হাত কেটে ফেলা উচিত! ডঃ নিষাদের এই চরম হুঁশিয়ারির পরেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের পাল্টা তোপ
সঞ্জয় নিষাদের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাঁসগাঁওয়ের ঐতিহাসিক দুর্গা মন্দিরে একজোট হন ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ। তাঁরা অংশুমান সিংয়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি, সঞ্জয় নিষাদকে একহাত নিয়ে সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে চরম কটাক্ষ করে বলা হয়, “নিষাদদের কাজ হলো মাছ কাটা, আর হাত কাটা বা গুলি করার মতো কাজ ক্ষত্রিয়রাই জানে। সঞ্জয় নিষাদের নিজের কাজ মাছ কাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।” উভয় পক্ষের এই তীব্র ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

এদিকে আইনি ঝামেলা ও রাজনৈতিক কোণঠাসার মুখে পড়া অংশুমান সিং তাঁর সম্প্রদায়ের এই সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই দুর্দিনের সময়ে আমার এলাকার এবং সম্প্রদায়ের মানুষ যেভাবে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, আমি তাঁদের কুর্নিশ জানাই।” তবে যেভাবে এই ছোট ঘটনাটি এক বড় রাজনৈতিক ও জাতিগত সংঘাতে রূপ নিচ্ছে, তাতে উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ার আশঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *