ওলা-উবারের দিন শেষ? পেট্রল ছেড়ে এবার বৈদ্যুতিক বাইকেই ভরসা, মহারাষ্ট্র সরকারের বিরাট নির্দেশ!

ওলা (Ola), উবার (Uber) এবং র‍্যাপিডোর (Rapido) মতো জনপ্রিয় বাইক ট্যাক্সি সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এক বড়সড় এবং কড়া নির্দেশিকা জারি করল মহারাষ্ট্র সরকার। রাজ্য সরকারের নতুন নীতি অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের জুলাই মাসের মধ্যে এই সমস্ত সংস্থাকে তাদের বাইক ট্যাক্সি বহরকে শতভাগ বৈদ্যুতিক বা ইলেকট্রিক (EV) বাহনে রূপান্তর করতে হবে। অর্থাৎ, নির্ধারিত এই সময়সীমার পর থেকে রাস্তায় আর কোনো পেট্রল চালিত মোটরসাইকেল বা বাইক ট্যাক্সি চালানো যাবে না।

মাত্র ৯ মাসের সময়সীমা বেঁধে দিল সরকার
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহারাষ্ট্র পরিবহন দফতর অক্টোবর মাসে বাইক ট্যাক্সি সংস্থাগুলি এবং রাজ্যের সমস্ত আঞ্চলিক পরিবহন অফিস বা RTO-কে এই মর্মে একটি সরকারি চিঠি পাঠিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সংস্থাগুলিকে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তরিত হওয়ার জন্য মোট ৯ মাসের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে বর্তমানে যাঁরা পেট্রল বাইক নিয়ে ট্যাক্সি চালাচ্ছেন, তাঁদের প্রথম ৬ মাসের মধ্যেই ইলেকট্রিক বাইকে স্থানান্তরিত হতে হবে। পাশাপাশি, মহারাষ্ট্র বাইক ট্যাক্সি বিধিমালা ২০২৫-এর অধীনে সাময়িক লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালকদের জন্য আরও ৩ মাস অর্থাৎ মোট ৯ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। তবে হঠাৎ করে সরকারের এই নিয়মে বাইক ট্যাক্সি চালক ও বিভিন্ন সংগঠনের অন্দরে রীতিমতো উদ্বেগের মেঘ তৈরি হয়েছে।

চালকদের আংশিক ক্ষোভ ও দাবি
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে ‘মহারাষ্ট্র বাইক ট্যাক্সি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নভিসকে চিঠি দিয়ে বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তরের জন্য অন্তত দেড় বছর সময় চাওয়া হয়েছিল। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত গাওয়াড়ের মতে, অধিকাংশ বাইক ট্যাক্সি চালকই প্রান্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবার থেকে আসেন। ফলে হুট করে তাঁদের পক্ষে নতুন ইলেকট্রিক বাইক কেনা অত্যন্ত কঠিন। এছাড়া রাজ্যে পর্যাপ্ত ইভি (EV) চার্জিং পরিকাঠামোর অভাব এবং ব্যাটারির দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে চালকদের মনে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে, বাইক ট্যাক্সি সংস্থাগুলিও এই রূপান্তরের সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সেই দাবি পুরোপুরি মেনে না নিয়ে কঠোরভাবে মাত্র ৯ মাসের ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায়, লাইসেন্সহীন ও নিয়ম লঙ্ঘনকারী বাইক ট্যাক্সিগুলির বিরুদ্ধে সরকারের এই কড়া অভিযান রাজ্যের গণপরিবহনে ঠিক কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *