খাবার না দেওয়ায় মাথায় বসল ৫টি সেলাই! ধাবায় খদ্দেরদের তাণ্ডব দেখে শিউরে উঠবেন

সোমবার গভীর রাতে রাজস্থানের পালি জেলার নয়াগাঁও ট্রান্সপোর্ট নগর সংলগ্ন মহাসড়কের ওপর অবস্থিত একটি ধাবায় ঘটা রক্তক্ষয়ী কাণ্ড ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খাবার না পেয়ে হোটেলের কর্মচারীদের ওপর চড়াও হওয়া এবং প্রতিবাদ করায় খোদ রাঁধুনির মাথায় ছুরি চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় আহত কর্মীর মাথায় পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ একটি গাড়ি ও একটি বাইকে করে ৫-৬ জন যুবক খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে হনুমান ধাবায় এসে পৌঁছায়। কিন্তু সেই সময় ধাবা বন্ধ করার সময় হয়ে যাওয়ায় কর্মী পাপ্পু তাঁদের সাফ জানিয়ে দেন যে আর কোনো খাবার অবশিষ্ট নেই। অভিযোগ, এই কথা শোনার পরেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবকরা প্রথমে ওই কর্মীকে বেধড়ক মারধর করে এবং জোর করে রান্নাঘরে ঢুকে খাবার তৈরি করতে বলে।
রান্নাঘরে কর্মরত মহেন্দ্র (২৮) নামে এক কর্মী যুবকদের জানান যে খাবার প্রস্তুত করা সম্ভব নয়। এতে আরও চটে গিয়ে যুবকদের মধ্যে একজন রাগের বশে রান্নাঘর থেকে একটি ধারালো ছুরি সজোরে ছুঁড়ে মারে মহেন্দ্রের দিকে। ছুরিটি সরাসরি মহেন্দ্রের মাথায় গিয়ে লাগে এবং সঙ্গে সঙ্গে রক্তে ভেসে যায় চারপাশ। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যাওয়ার পর অভিযুক্ত যুবকেরা দ্রুত তাদের গাড়ি ও বাইকে চড়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
হাসপাতালে উত্তেজনা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
রক্তাক্ত অবস্থায় মহেন্দ্রকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে পালির বাঙ্গার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর মাথায় গভীর ক্ষত দেখে পাঁচটি সেলাই দেন। এদিকে ঘটনার খবর পেয়েই আহত যুবকের পরিবার ও পরিচিতরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। গভীর রাতে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক ভিড় জমে যাওয়ায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে ট্রান্সপোর্ট নগর থানা আহত মহেন্দ্রের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। তবে এই ঘটনার পরেই এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে আহত মহেন্দ্রের ভাই বংশী বানজারা। তাঁর দাবি, হামলাকারী ওই যুবকদের সঙ্গে পুলিশকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো দলটিই মদ্যপ অবস্থায় ছিল। ধাবার কর্মচারীদেরও একই অভিযোগ, হামলাকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে পুলিশ। সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে এখন জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পালি জেলা পুলিশ।