অক্টোবর মাসেই খাঁখাঁ করছে মাঝারি সেচ প্রকল্প! ১৫-২০টি গ্রামে হাহাকার, মাথায় হাত কৃষকদের

প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় অক্টোবর মাসেই জলের চরম সঙ্কটে ধুঁকতে শুরু করল বিস্তীর্ণ জনপদ। মহারাষ্ট্রের জালনা জেলার আম্বাদ তালুকায় অবস্থিত বারাসওয়াড়ার ‘গলহাটি মাঝারি জল প্রকল্প’টি সম্পূর্ণ শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। এই প্রকল্পের ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল প্রায় ১৫ থেকে ২০টি গ্রাম এখন তীব্র জলসঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

এলাকার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার অন্যতম প্রধান ভরসা ছিল এই গলহাটি প্রকল্প। স্থানীয় গ্রামগুলির পানীয় জলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কৃষি কাজ এবং পশুপালনের জন্যও জল সরবরাহ করত এই মাঝারি জল প্রকল্প। কিন্তু চলতি বছরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে অক্টবরের শুরুতেই সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে আধারটি।

রবি মরসুম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা
খরিফ মরসুমে বৃষ্টির অভাবে কৃষকদের ইতিমধ্যেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। কৃষকদের আশা ছিল, পরবর্তী দফায় কিছুটা বৃষ্টি হলে প্রকল্পে জল সঞ্চিত হবে এবং রবি মরসুমে ফসল ফলানোর কাজে তা সাহায্য করবে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেই বৃষ্টির দেখা মেলেনি। ফলস্বরূপ, আসন্ন রবি মরসুমের চাষবাস নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কার মেঘ ঘটিয়েছে চাষিদের কপালে।

প্রকল্পের জল শুকিয়ে যাওয়ায় আগামী দিনগুলিতে শুধু পানীয় জল নয়, গবাদি পশুর জল এবং খেতের সেচকার্য নিয়েও বিরাট বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, এই প্রকল্পই ছিল ওই অঞ্চলের কৃষিকাজের প্রধান প্রাণকেন্দ্র। যখন পর্যাপ্ত জল থাকে, তখন আশেপাশের কৃষকরা অনায়াসে জমিতে ফসল ফলান। কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে প্রকল্পটি একেবারে শুকিয়ে যাওয়ায় এলাকার কৃষক ও সাধারণ গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

প্রশাসনের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি
পরিস্থিতি যে দিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে দ্রুত কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করা হলে আগামী দিনে জীবনযাত্রা স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। গ্রামবাসীদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনকে নড়েচড়ে বসতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলিতে বিকল্প উপায়ে পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি ও পশুপালনের জলের ঘাটতি মেটাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পদক্ষেপ করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *