বিউটি পার্লার নাকি প্রতারণার ফাঁদ! জামশেদপুরে আড়াই কোটি টাকার জালিয়াতিতে পুলিশের জালে এক পরিবার

ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে বিউটি পার্লারের আড়ালে এক মারাত্মক আর্থিক প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। শহরের সোনরি এলাকার কাগলনগরের গোল্ডেন টাউনে অবস্থিত ‘স্যাটিন পিঙ্ক স্যালন’-এর আড়ালে প্রায় আড়াই কোটি (২৫.১৮ মিলিয়ন) টাকার জালিয়াতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্যালনের মালিক পুনম অরোরা, তাঁর স্বামী সানি অরোরা এবং ছেলে সক্ষম অরোরার বিরুদ্ধে সোনরি থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গোটা মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর পরেস রাজওয়ারের ওপর।
কীভাবে চলত এই প্রতারণা চক্র?
বিষ্টুপুরের ওল্ড সার্কিট হাউস এলাকার বাসিন্দা শুভঙ্কর চ্যাটার্জীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই মামলা রুজু করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে অভিযুক্ত পরিবারটি বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে। এরপর ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং সহজ ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
বিনিয়োগকারীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, ‘স্যাটিন পিঙ্ক স্যালন’ এবং অন্যান্য ব্যবসায় সেই টাকা খাটানো হবে। তাদের বিনিয়োগ করা অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে মুনাফাসহ তা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও টাকা ফেরত দেওয়া তো দূরের কথা, উল্টে টাকা চাওয়ার চাপ বাড়লে অভিযুক্তরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এমনকি পাওনাদারদের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে হুমকি ও ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাদের কাছ থেকে কত টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে?
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই চক্রের খপ্পরে পড়ে ১২ জনেরও বেশি মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছেন। প্রতারিতদের মধ্যে রয়েছেন—
নবীন আগরওয়াল ও মনক কুমার তেওয়ারিওয়াল: প্রত্যেকে ৩৬.৫০ লক্ষ টাকা
শুভঙ্কর চ্যাটার্জি, রাম কুমার ও রাজেন্দ্র খেমকা: প্রত্যেকে ২৫ লক্ষ টাকা
মনীশ রাখেজা: ২১.৪০ লক্ষ টাকা
অঙ্কিত শেঠি ও এ. রাম কুমার যাদব: যথাক্রমে ১৭ লক্ষ ও ১০.৫০ লক্ষ টাকা
হরজিন্দর সিং ওরফে প্রিন্স: ১৬.২০ লক্ষ টাকা
রাহুল কুমার প্রসাদ ও বিকাশ কুমার: প্রত্যেকে ১৪ লক্ষ টাকা
সতেন্দ্র পাল সিং: ১২.৫০ লক্ষ টাকা
এছাড়া রাকেশ কুমার সিংয়ের থেকে নেওয়া হয়েছে ৬ লক্ষ টাকা।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
পুলিশ সূত্রে খবর, এই বিশাল অঙ্কের জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে তদন্তকারীদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, অর্থপ্রদানের রসিদ, ব্যাংক ট্রান্সফারের রেকর্ড এবং একাধিক অডিও রেকর্ডিং জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ইউপিআই (UPI) আইডি এবং বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের অ্যাকাউন্টে করা লেনদেনগুলি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি, এই প্রতারণার টাকায় কেনা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সম্পত্তি বাজেট করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে পরিবারের বাইরে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে সোনরি থানার পুলিশ।