সিইসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী! জানেন কি প্রতি মাসে কত বেতন পান প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার?

ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (CEC) ভূমিকা এবং তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরা ভোটার তালিকা সংশোধন ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন ও সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে তীব্র বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিরোধীরা। এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক তরজার মাঝেই সবার মনে কৌতূহল দানা বেঁধেছে যে, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ঠিক কত বেতন পান এবং কী কী বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন?
সিইসি-র বেতন ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা
বর্তমানে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মূল মাসিক বেতন ২,৫০,০০০ টাকা, যা একজন ক্যাবিনেট সচিবের বেতনের সমতুল্য। পূর্বে সিইসি-র বেতন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বেতনের সমান থাকলেও ২০২৩ সালের সংশোধিত আইন অনুযায়ী তা ক্যাবিনেট সচিবের বেতনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। বেতন ছাড়াও সিইসি অন্যান্য আকর্ষণীয় ও বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন—
মাসিক ভাতা: ৩৪,০০০ টাকা (যদিও সিইসি এবং অন্যান্য কমিশনারগণ স্বেচ্ছায় এর ওপর আয়কর ছাড় ত্যাগ করেছেন)।
অন্যান্য সুবিধা: দীর্ঘমেয়াদী যত্ন (LTC) সুবিধা, সরকারি আবাসন, চালকসহ সুরক্ষিত সরকারি যানবাহন এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বিনামূল্যে পরিষেবা: নিজের ও পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা নামমাত্র খরচে বিদ্যুৎ, জল, টেলিফোন এবং বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিষেবা।
অবসরের পর: অবসর গ্রহণের পর মোটা অঙ্কের পেনশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক সুযোগ-সুবিধা।
আইন সংশোধনে কী পরিবর্তন এল?
১৯৯১ সালের পুরোনো আইন অনুযায়ী সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারদের বেতন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সমতুল্য ছিল। কিন্তু ‘সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার বিল, ২০২৩’ পাস হওয়ার পর সরকার কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ক্যাবিনেট সচিবের সমহারে তাঁদের বেতন নির্ধারণের ক্ষমতা হাতে নেয়। এর ফলে কার্যনির্বাহী বিভাগ বা সরকারের হাতে এই বেতন নির্ধারণের ক্ষমতা আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কে এই জ্ঞানেশ কুমার?
বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কেরালা ক্যাডারের ১৯৮৮ ব্যাচের এক অবসরপ্রাপ্ত আইএএস (IAS) অফিসার। ২০২৪ সালে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে উন্নীত হন। ৬২ বছর বয়সি এই আইএএস অফিসার অতীতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। বিশেষ করে ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিলের সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাশ্মীর বিভাগের যুগ্ম সচিব ছিলেন এবং পরবর্তীতে অযোধ্যা রাম মন্দির ট্রাস্ট গঠন সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গেও ওপ্রোতোভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি কানপুর আইআইটি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক এবং আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
সম্পদের হিসাব নিয়ে বিতর্ক
সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের মোট সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে জনসমক্ষে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য উপলব্ধ নেই। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সাকেত গোখলে আরটিআই (RTI) আইনের মাধ্যমে জ্ঞানেশ কুমারের বিগত বছরের স্থাবর সম্পত্তির (IPR) বিবরণ জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেন্ট্রাল পার্সোনাল অ্যান্ড ট্রেনিং ডিপার্টমেন্ট (DoPT) তা ‘ব্যক্তিগত তথ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রকাশ করতে অস্বীকার করে। একজন প্রাক্তন শীর্ষ আইএএস কর্মকর্তার সম্পত্তির হিসাব কেন প্রকাশ্যে আনা হবে না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সামগ্রिक এই আবহে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন এবং সিইসি-র পদ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।