হাসপাতালের বাথরুমে ঢুকে পড়ল আস্ত একটা চিতা বাঘ! চার ঘণ্টা রোগীদের দমবন্ধ করা আতঙ্কের পর যা ঘটল

হাসপাতালের ভেতরে বাথরুমে ঢুকে পড়ল একটি আস্ত চিতা বাঘ! সোমবার সকালে এই চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসতেই ছত্তিশগড়ের কাওয়ার্ধা (Kawardha) শহরের স্নেহা হাসপাতালে এবং তার আশেপাশের এলাকায় তীব্র হাড়হিম করা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবারে হাসপাতাল চত্বরে হঠাৎ বন্য জন্তুর উপস্থিতি টের পাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে হাসপাতালের কামরায় রোগীরা রীতিমতো আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে বন্দি হয়ে থাকেন।
বাথরুমে গিয়ে মহিলার ওপর আক্রমণ
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই চিতা বাঘটি সরাসরি হাসপাতালের বাথরুমে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেই সময়ে যশোদা বাই নামের এক মহিলা রোগী বাথরুমের কাছে গেলে বাঘটির মুখোমুখি পড়েন। ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওই মহিলা জানান, “আমি বাথরুমে গিয়েছিলাম, সেখানেই চিতাটাকে দেখতে পাই। দেখেই ভয় পেয়ে দৌড়াতে শুরু করি। ও আমার পিছন পিছন ধাওয়া করে এবং আমার ওপর আক্রমণ চালায়। আমি পালানোর চেষ্টা করলেও ভয়ের চোটে মাটিতে পড়ে যাই।”
আক্রমণের ফলে ওই মহিলার গায়ে বাঘের নখের আঁচড়ে আঘাত লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেলাই দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই মহিলার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাঁকে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।
বন বিভাগের তৎপরতা ও রেস্কিউ অপারেশন
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় স্থানীয় বন বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসন। ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (DFO) নিখিল আগরওয়াল জানান, চিতা বাঘটি বর্তমানে স্নেহা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি এক্সিট বা জরুরি প্রস্থান দরজার কাছে অবস্থিত মহিলাদের বাথরুমে বন্দি রয়েছে। বন দফতরের কর্মীরা নিরাপত্তার খাতিরে বাঘটিকে ওই বাথরুমে আটকে রেখে বাইরে থেকে সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ও অভিজ্ঞ রেস্কিউ টিম ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে। তাদের সহায়তায় সম্পূর্ণ নিরাপদ উপায়ে চিতা বাঘটিকে ট্রাঙ্কুলাইজ বা অচেতন করে সুস্থ অবস্থায় ফের গভীর জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়ার জোরদার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই আকস্মিক ঘটনায় হাসপাতাল চত্বর ও গোটা এলাকায় এখনও চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য বজায় রয়েছে।