‘হেলমেট পরে নেওয়া উচিত, নয়তো জনগণ মাথা ফাটবে!’ গ্রেফতার হতেই হুমায়ুনকে চরম কটাক্ষ শমীকের

উপনির্বাচনের আবহে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর তুঙ্গে। পুলিশকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য এবং পুলিশের গায়ে হাত তোলার মতো গুরুতর অভিযোগে ইতিমধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর এই ঘটনার পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। জলপাইগুড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, হুমায়ুন কবীরকে আরও অনেক আগেই গ্রেফতার করা উচিত ছিল, পুলিশ এক্ষেত্রে কিছুটা দেরিই করেছে।
উত্তরবঙ্গে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে জেলা সফরে বেরিয়েছেন শমীক। সফরের শুরুতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তিনি। রেজিনগর উপনির্বাচনে হুমায়ুনের গ্রেফতারি, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভবিষ্যৎ এবং সিপিএমের কৃষক সভার সাম্প্রতিক সক্রিয়তা—প্রতিটি ইস্যুতেই চড়া সুরে আক্রমণ করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।
হুমায়ুন কবীরকে নিয়ে শমীকের বিস্ফোরক মন্তব্য
রেজিনগর উপনির্বাচনে পুলিশ বিজেপির হয়ে কাজ করছে বলে হুমায়ুন কবীর যে অভিযোগ তুলেছিলেন, তা উড়িয়ে দিয়ে শমীক বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ হুমায়ুনকে ভালোভাবেই চিনে গিয়েছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, বিভাজনের রাজনীতি, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য এবং হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টার কারণেই আজ তিনি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ভারতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও পরম্পরাকে অপমান করারও অভিযোগ তোলেন শমীক।
ভোটের বাজারে অশান্তির আশঙ্কা নিয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারের পাশাপাশি পুলিশেরও মূল দায়িত্ব। কেউ যদি ‘সীমার বাইরে’ যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে প্রশাসন নিজের নিয়মেই কড়া ব্যবস্থা নেবে। হুমায়ুনের বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গে শমীক কটাক্ষ করে আরও বলেন, “ওর এক্ষুনি হেলমেট পরে নেওয়া উচিত। কারণ, বাইরে বেরোলে ক্ষুব্ধ মানুষই ওর মাথায় বাড়ি মারবে।”
‘ইন্ডিয়া’ জোট ও সিপিএমের কৃষক সভাকেও তীব্র নিশানা
এদিন শুধু হুমায়ুন কবীর নন, বিরোধী জোট এবং বামেদেরও একহাত নেন শমীক ভট্টাচার্য। ‘ইন্ডিিয়া’ (INDIA) জোট প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, বাস্তবে এই জোটের কোনো অস্তিত্বই নেই। লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলি এক মঞ্চে আসার চেষ্টা করলেও তারা রাজনৈতিকভাবে কখনও ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি, এমনকি একটি যৌথ সাংবাদিক বৈঠক পর্যন্ত করতে পারেনি। যেখানেই নির্বাচন হচ্ছে, সেখানেই মানুষ এই জোটকে প্রত্যাখ্যান করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে সিপিআইএমের কৃষক সভার সক্রিয়তা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলেন শমীক। বামেদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর কোথায় ছিল এই কিষাণ সভা?” তৃণমূলের জমানায় কৃষকদের জমি ও পাট কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ এবং ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ার সময় বামেদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলিয়ে তিনি দাবি করেন, মানুষ বামেদের রাজনৈতিক চরিত্র ভালোভাবেই বুঝে গিয়েছেন এবং আগামী দিনে তাদের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ মুছে যাবে।