মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্থার মারাত্মক অভিযোগ! পদোন্নতি আটকাল দিল্লি পুলিশের এসিপি বিবেক ভগতের

যৌন হেনস্থা এবং শ্লীলতাহানির মতো মারাত্মক অভিযোগ ওঠার পর অবশেষে ধাক্কা খেলেন দিল্লি পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (ACP) বিবেক ভগত। যন্তর মন্তরের কাছে একটি বিক্ষোভ চলাকালীন মহিলা সাংবাদিকদের হেনস্থা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানে ক্রাইম ব্রাঞ্চ এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে, আর সেই কারণেই তাঁর পদোন্নতির নির্দেশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।

সরকারের অবস্থান ও অভিযুক্তের আর্জি
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ সোমবার গভীর রাতে দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয় যে, অভিযুক্ত অফিসার বিবেক ভগত নিজেই সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, “এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত” যেন তাঁকে নতুন পদে উন্নীত করা না হয়। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পদোন্নতির এই নির্দেশিকা অন্য আধিকারিকদের ক্ষেত্রে কার্যকর হলেও আপাতত বিবেক ভগতের জন্য তা স্থগিত রাখা হচ্ছে।

দিল্লি পুলিশের একটি নির্দেশিকায় সরকারি কাজের স্বার্থে অবিলম্বে ১২ জন ডিএএনআইপিএস আধিকারিককে অ্যাডিশনাল ডিসিপি পদে পদোন্নতি করার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এই তালিকায় ছিলেন ২০১৮ ব্যাচের অফিসার বিবেক ভগত।

ঠিক কী ঘটেছিল যন্তর মন্তরে?
অভিযোগকারী মহিলা সাংবাদিকদের মধ্যে একজন তাঁর দায়ের করা অভিযোগে তৎকালীন এসিপি বিবেক ভগতের নাম সরাসরি উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা ‘আইসা’ (AISA)-র সভানেত্রী নেহা বোরাকে পুলিশ যখন আটক করছিল, তিনি সেই ঘটনার খবর সংগ্রহ করছিলেন। সেই সময় ঘটনাস্থলে কোনো মহিলা পুলিশকর্মী উপস্থিত না থাকায় তিনি প্রশ্ন তোলেন যে কেন পুরুষ পুলিশকর্মীরা আন্দোলনকারী মহিলাকে স্পর্শ করছেন।

অভিযোগ, এই প্রশ্ন তোলার পরেই এসিপি বিবেক ভগত ওই মহিলা সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন, তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন এবং ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেন। ঘটনার পরপরই ওই সাংবাদিক এফআইআর (FIR) রুজু করার জন্য পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় হাজির হন। একই বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে আরও দুই মহিলা সাংবাদিক পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। বর্তমানে এই তিনটি অভিযোগই ক্রাইম ব্রাঞ্চ খতিয়ে দেখছে এবং শীঘ্রই অভিযোগকারীদের বয়ান নথিভুক্ত করা হবে।

পুলিশের প্রতিক্রিয়া
এদিকে, বিক্ষোভের সময় মহিলা আন্দোলনকারীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানোর সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এক বিবৃতিতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। নিয়ম মেনেই সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *