বুকে ব্যথা ছাড়াই হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন আপনি! নিঃশব্দে থাবা বসানো ‘সাইলেন্ট ইসকেমিয়া’ কী?

হার্টের অসুখের প্রথম লক্ষণ বলতেই সাধারণ মানুষের মনে ভেসে ওঠে তীব্র বুকে ব্যথা, হাঁফ ধরা, শ্বাসকষ্ট হওয়া কিংবা অতিরিক্ত ঘাম হওয়া। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, অনেক সময় শরীরে সেই অর্থে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ বা কষ্ট ছাড়াই হৃদরোগ নিঃশব্দে থাবা বসাতে পারে। রক্ত চলাচল কমে যাওয়া সত্ত্বেও বুকে কোনো ব্যথা না হয়ে ধমনী ব্লক হয়ে যাওয়ার এই বিপজ্জনক অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘সাইলেন্ট ইসকেমিয়া’ (Silent Ischemia)। তবে কি এর কোনো লক্ষণই থাকে না? নামমাত্র হলেও কিছু সূক্ষ্ম উপসর্গ কিন্তু শরীর দেয়, যা অবহেলা করলে বড় বিপদ হতে পারে।
কেন ধমনী ব্লক হয় এবং ক্ষতি কোথায় হয়?
মূলত রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলেই করোনারি আর্টারিতে সমস্যা দেখা দেয়। ধমনী যখন ধীরে ধীরে সরু হয়ে আসে, তখন হৃদপিণ্ডে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। বুকে ব্যথা বা অন্য কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ নেই মানেই যে আপনার হার্ট একদম সুস্থ রয়েছে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। রক্ত চলাচলে ঘাটতি হওয়ার কারণে নিঃশব্দে হার্টের মাসল বা পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে এবং ভবিষ্যতে জটিলতা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
কাদের রয়েছে এই নীরব হৃদরোগের ঝুঁকি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই নীরবে হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই বেশি থাকে। যেমন:
যাঁদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে।
রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে।
যাঁদের ওজন অতিরিক্ত বেশি বা যাঁরা স্থূলতায় ভুগছেন।
নিয়মিত ধূমপান করার অভ্যাস থাকলে এবং কোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করলে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেওয়ার অভ্যাস কিংবা পরিবারে যদি হার্টের অসুখের কোনো পুরনো ইতিহাস থাকে।
একেবারে কি কোনো লক্ষণ থাকে না?
চিকিৎসকদের মতে, লক্ষণ যে একেবারেই থাকে না তা নয়, তবে সেগুলি এতটাই সাধারণ হয় যে মানুষ সাধারণত গুরুত্ব দেন না। যেমন—
কথায় কথায় অতিরিক্ত ক্লান্ত বোধ করা বা সামান্য কাজেই দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়া।
মাঝেমধ্যেই মাথা ঝিমঝিম করা বা কোনো কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক ঘাম হওয়া।
ঘন ঘন বদহজম বা অম্বলের সমস্যা হওয়া।
পিঠের দিকে কিংবা হঠাৎ মাড়িতে অদ্ভুত ধরনের ব্যথা অনুভূত হওয়া।
এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে কিংবা কোনো লক্ষণ না থাকলেও ঝুঁকি এড়াতে বছরে অন্তত দু’বার একজন ভালো কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে নিয়মিত ইসিজি (ECG), কোলেস্টেরল টেস্ট এবং রক্তচাপ পরীক্ষা করানো জরুরি।
নীরব হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর উপায়
নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা বা এক্সারসাইজ করার অভ্যাস করুন।
তেল-মশলা জাতীয় খাবারের পরিবর্তে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার ডায়েটে রাখুন।
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং যেকোনো ধরনের ধূমপান বা নেশা থেকে দূরে থাকুন।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল থাকলে তা সবসময় কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখুন।