‘বিগ বস’-এর ঘরে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বোমা ফাটালেন সৃজলা গুহ! নন্দিনীর আঘাতে আর কোনদিন মা হতে পারবেন না অভিনেত্রী?

‘বিগ বস বাংলা’-র অন্দরে বিতর্ক যেন থামার নামই নিচ্ছে না। শোয়ের অন্দরে এবার এক মর্মান্তিক ও ভয়ঙ্কর সত্যি সকলের সামনে এনে ফেললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সৃজলা গুহ (Srijla Guha)। সোমবারের এপিসোডে এক প্রতিযোগিতার মাঝেই তিনি বিস্ফোরকভাবে দাবি করেন যে, প্রতিযোগী নন্দিনীর মারাত্মক শারীরিক আঘাতের ফলেই তিনি তাঁর মাতৃত্বের ক্ষমতা হারিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আর কখনও মা হতে পারবেন না! এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের জেরে এখন সরগরম নেটদুনিয়া।
বিগ বসের ঘরে অভিযোগের তুফান
এদিন বিগ বসের পক্ষ থেকে প্রতিযোগীদের একটি অভিনব টাস্ক দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, কনফেশন রুমে গিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে হয়। এরপর ড্রয়িং রুমে সেই অভিযোগগুলি প্রকাশ্যে পড়ে শোনানো হলে, যার নামে অভিযোগ তাঁকে আন্দাজ করতে হয় কে সেই কথা লিখেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের মুখে ফোম মেখে সেই অভিযোগের জবাবও দিতে হতো।
এই টাস্কে সবচেয়ে বেশি অভিযোগের তীর ধেয়ে আসে সৃজলার দিকেই। যার ফলে তাঁকে একাধিকবার মুখে ফোম মাখতে দেখা যায়। এর মাঝেই প্রতিযোগী তনুশ্রী সৃজলার উদ্দেশ্যে একটি অভিযোগ লেখেন, যেখানে বলা হয়—নন্দিনী নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং অনুতপ্ত, তাই সৃজলার এবার তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত।
বিস্ফোরক সৃজলা
তনুশ্রীর এই কথা শোনার পরেই মেজাজ হারান সৃজলা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, নন্দিনীকে তিনি জীবনেও ক্ষমা করবেন না। নিজের চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে সৃজলা বলেন, “আমার যে চোট লেগেছে, সেটা একটা ব্লান্ট ফোর্স ইনজুরি (Blunt force injury)। আর সেই কারণেই আমি আর মা হতে পারব না।”
কী ঘটেছিল সেই বিতর্কিত ঘোড়ার টাস্কে?
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে বিগ বসের একটি গেমে ঘোড়ার ওপর থেকে সৃজলাকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল নন্দিনীর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেসময়ও তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নন্দিনীর প্রবল ধাক্কায় ঘোড়া থেকে সজোরে মাটিতে ছিটকে পড়েন সৃজলা এবং যন্ত্রণায় চিৎকার করে কেঁদে ওঠেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিগ বস তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রামে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেসময় রাজবীর তাঁকে কোলে তুলে সোফায় নিয়ে যান। চোট এতটাই গুরুতর ছিল যে সৃজলাকে বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। খেলার নিয়ম বহির্ভূতভাবে এমন আক্রমণ হওয়ার পরেও নন্দিনী পরবর্তী সময়ে বারবার ক্ষমা চাইলেও সৃজলার মনে জমে থাকা ক্ষোভ যে একচুলও কমেনি, তা এদিনের এপিসোডে স্পষ্ট হয়ে গেল।
এদিকে, এই গুরুগম্ভীর ও উত্তপ্ত পরিবেশের মাঝেই অবশ্য কিছুটা স্বস্তির মুহূর্তও দেখা যায়। সহ-প্রতিযোগী রাজবীরের জন্মদিনে বিগ বসের পাঠানো কেক কাটার পাশাপাশি নন্দিনী নিজের হাতে পায়েস বানিয়ে তাঁকে খাওয়ান। সবমিলিয়ে, প্রতিযোগীদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব আর চরম উত্তেজনায় এখন টানটান উত্তেজনায় ভরপুর ‘বিগ বস বাংলা’-র অন্দরমহল।