টিউশনির প্রথম উপার্জনে কী করেছিলেন কাঞ্চন মল্লিক? স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে চোখে জল অভিনেতার!

সিনেমা হলের পর্দা কাঁপানো নিখাদ কমেডি টাইমিং হোক কিংবা হাসির খোরাক জোগানো মেজাজ—টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক বরাবরই দর্শকদের বিশেষ পছন্দের। পাশাপাশি অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক হিসেবেও তিনি সমানভাবে পরিচিত। তবে শত ব্যস্ততা, বিতর্ক আর সাফল্যের ভিড়েও মানুষ কাঞ্চন যে আজও নিজের শেকড় আর ফেলে আসা দিনগুলোকে কতটা আগলে রাখেন, তার এক চমৎকার মিশেল দেখা গেল তাঁর সাম্প্রতিক স্মৃতিচারণায়। জীবনের প্রথম উপার্জনের টাকা দিয়ে ঠিক কী করেছিলেন তিনি? আজ সফলতার শীর্ষে পৌঁছেও সেই আবেগঘন গল্প খোলামেলাভাবে শেয়ার করলেন অভিনেতা।
টিউশনির প্রথম উপার্জনে মা-বাবার জন্য বিশেষ উপহার
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রথম উপার্জনের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে কাঞ্চন জানান, টিউশনি করে পাওয়া সেই প্রথম পারিশ্রমিক দিয়ে তিনি নিজের জন্য কিচ্ছু ভাবেননি। সোজা মাকে একটা লিমকার বোতল কিনে দিয়েছিলেন, কারণ মায়ের লিমকা খাওয়ার শখ সম্পর্কে তিনি ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল ছিলেন।
একইসঙ্গে বাবার জন্যও এক প্যাকেট সিগারেট কিনেছিলেন তিনি। তবে তা নিজে হাতে বাবাকে দেওয়ার মতো সাহস বা সুযোগ সেভাবে না থাকায়, মায়ের হাত দিয়েই তা পাঠিয়েছিলেন। যদিও সেই উপহার বাবা শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করেননি, তবুও সেদিনের সেই অনুভূতির কথা আজও অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকের মনে সযত্নে গেঁথে রয়েছে।
মায়ের সামান্য চাওয়া ও ডিম প্রীতির নস্ট্যালজিয়া
মায়ের সহজ-সরল স্বভাবের কথা বলতে গিয়ে কাঞ্চন জানান, মায়ের চাহিদাপত্র সবসময়ই ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। তাঁর মুখে কোনোদিন কোনো বাড়তি বায়না শোনা যায়নি। মায়ের হাসিমুখের স্মৃতিচারণা করে অভিনেতা বলেন, “মাকে যদি দুটো ছুঁচোও এনে দিতাম, উনি খুব হাসিমুখে তা গ্রহণ করতেন। কোনোদিন বলতেন না যে এসবের কী দরকার ছিল!”
পরবর্তী সময়ে যখন পকেটে একটু বেশি পয়সা এল এবং সত্যি অর্থ উপার্জনের ক্ষমতা তৈরি হলো, তখন মায়ের এক অন্য ইচ্ছের কথা জানতে পেরেছিলেন তিনি। পুজো এলেই কাঞ্চন মাকে জানতে চাইতেন, তিনি কী উপহার চান। তখন মা শাড়ি বা অন্য কোনো দামি জিনিসের আবদার না করে হাসিমুখে বলতেন, “তুই আমাকে একটা লিমকা খাওয়াস আর ডিম খাওয়াস।”
মায়ের এই ডিম প্রীতির কথা বলতে গিয়ে এক আবেগঘন মুহূর্তের অবতারণা করেন কাঞ্চন। তিনি জানান, হাজরা পার্কের ধারের বিখ্যাত রাস্তার সেই ডিম ভাজা ও মাঝখান থেকে কাটা মশলা দেওয়া সেদ্ধ ডিমের প্রতি মায়ের এক অন্যরকম দুর্বলতা ছিল। সেই স্মৃতিচারণা করে অভিনেতা বলেন, “আমি একদিন এক ডজন সেদ্ধ ডিম, দুটো ডাবল ডিমের অমলেট আর দেড় লিটারের একটা বড় লিমকা নিয়ে গেছিলাম মায়ের জন্য। মা কী যে আনন্দ পেয়েছিল!” সেদিনের সেই খুনসুটি আর মায়ের হাসিমুখের কথা মনে পড়লে আজও নস্ট্যালজিক হয়ে পড়েন তিনি। তবে সবশেষে স্মৃতির রোমন্থনে খানিক রসিকতা মেশাতেও ছাড়েননি কাঞ্চন। হাসতে হাসতে নিজেই নিজের টিউশনি করানোর দিনগুলোকে কটাক্ষ করে তিনি মজা করে বলেন, “আমি যখন টিউশনি করতাম, তখন আসলে একজনের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতাম!”