‘Form 6 সংশোধনের অনুমতি তো দিইনি,’ EC-কে নোটিস পাঠালো সুপ্রিম কোর্ট

স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) এবং ফর্ম-৬ এর পরিবর্তনসহ নির্বাচন কমিশনের একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় বড় মোড় এল। সোমবার এই মামলাটির শুনানিতে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের কাছে সর্বদা আইন মেনে চলারই প্রত্যাশা করা হয়। কমিশন আইন ভেঙে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে সমস্ত সিদ্ধান্তের মূল রেকর্ড আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফর্ম-৬ পরিবর্তন ও সিইসির একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি কড়া সুরে জানান, আদালত কখনই ফর্ম-৬ পরিবর্তনের কোনো অনুমোদন দেয়নি। কে বা কারা এই পরিবর্তন করেছেন, তা জমা দেওয়া নথিপত্র দেখেই যাচাই করবে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সতর্ক করে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যদি কোনো বেআইনি কাজ হয়ে থাকে, তবে তার পরিণতিও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ভোগ করতে হবে।”
এদিনের শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ মেনকা গুরুস্বামী। তিনি আদালতকে জানান, ভোটাধিকার হরণের ফলে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নাগরিকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দিল্লিতে প্রায় ৩০ লক্ষ এবং একাই পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষ এই সংকটের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, মামলাকারীর আরেক আইনজীবী বিকাশ সিং দাবি করেন, বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার সাংবিধানিক বিধানের তোয়াক্কা না করে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা কমিশনের যৌথ সিদ্ধান্তের নীতির পরিপন্থী। এমনকি পরিস্থিতি সামাল না দিলে দেশে বড় ধরনের অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
ইমিউনিটি এবং আইনি সুরক্ষার কড়া সমালোচনা
মামলায় কেবল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নয়, বরং নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা বা ‘ইমিউনিটি’ নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে আইনের ১৬ নম্বর ধারার অধীনে সিইসিকে যে ব্যাপক ও নিঃশর্ত আইনি সুরক্ষা (Blanket Immunity) দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আপত্তি জানান মামলাকারীরা। অবসর নেওয়ার পরেও কেন এই বিশেষ সুরক্ষা বহাল থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয় যে অন্য কোনো সরকারি আধিকারিককে এমন ছাড় দেওয়া হয় না।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের জবাব এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আসল ফাইল বা রেকর্ড সামনে আসার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। প্রক্রিয়াগত কোনো ত্রুটি বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে কমিশনকে বড় খেসারত দিতে হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনিমহল।