“আমি এই পা চাটি, আর চাটবোও!”-মমতার চোট নিয়ে শুভেন্দুর দাবির পরেই বিস্ফোরক পোস্ট অভিনেত্রীর

দলবদলুর ঝড়ে যখন টলমল রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ঠিক সেই সময়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে একবারে ১০০ শতাংশ অনড় ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ তথা অভিনেত্রী ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে যখন একের পর এক তারকা ও হেভিওয়েট নেতারা দল ছেড়ে পদ্মশিবিরে নাম লিখিয়েছেন, তখন উলটো স্রোতে হেঁটে কালিঘাটের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন ময়না ও তাঁর স্বামী অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর পা ভাঙার ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিস্ফোরক দাবি ও তদন্তের নির্দেশের পরই ময়নার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র ঝড় উঠেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির মাঝেই দলের সঙ্গে একনিষ্ঠভাবে জুড়ে থাকা ময়না বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে একটি রক্তাক্ত পায়ের ছবি পোস্ট করেন। সেই ছবি শেয়ার করে অভিনেত্রী ক্যাপশনে লেখেন, “আমি এই পা চাটি, আর চাটবোও, এমন চাটবো যাতে বেইমানগুলো বিবেকের দংশনে দংশিত হতে থাকে প্রতি মুহূর্তে। জয় বাংলা। জয়তু নেত্রী।”

তাঁর এই আক্রমণাত্মক এবং বিতর্কিত পোস্টটি সামনে আসার মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে তীব্র আক্রমণ করে কমেন্ট বক্সে লেখেন—”এই পা ধুয়ে জল খান”, আবার কেউ কটাক্ষ করে লেখেন, “পা ভাঙা থাকলে মানুষ ওই পা নাড়াতে পারে না, অথচ মমতা ওই পা নাচিয়ে গেছেন!” যদিও এই সমস্ত ট্রোল বা কটাক্ষের একটিরও কোনো পাল্টা জবাব দেননি অভিনেত্রী।

“আমরা বেইমান নই,” স্পষ্ট বার্তা ময়নার

২০২৬ সালের নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে যখন টলিপাড়ার অনেক তারকা ও নেতা রাতারাতি দল বদলে ফেলেছেন, তখন ময়না ও তাঁর স্বামী অর্ণব কিন্তু দল ছাড়েননি। বর্তমানে তৃণমূলের যুব সভাপতি পদের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অর্ণব। একসময়ে প্রথম সারির তারকাদের ভিড়ে ময়না-অর্ণবকে কিছুটা ব্যাকফুটে বা আড়ালেই থাকতে দেখা গেলেও আজ তাঁরা দলের প্রথম সারির মুখ।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “আমরা বেইমান নই, তাই তৃণমূল কংগ্রেসকে আঁকড়ে পড়ে আছি এখনও। আমরা দুঃসময়ে দিদির পাশে ও অভিষেক দার পাশে আছি।” তারকাদের ভিড়ে দল চলে না, বরং কর্মীরাই দলের আসল শক্তি—এই নীতিতে বিশ্বাস রেখেই কঠিন সময়েও দিদির ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে এই জুটিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *