২০২১ সালের পা ভাঙার রহস্য আর গোপনীয়তা ফাঁস! মমতার কড়া পদক্ষেপে বেকায়দায় চিকিৎসকরা?

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত গোপন রিপোর্ট প্রকাশ্যে চলে আসার ঘটনায় এ বার সরাসরি আসরে নামলেন তিনি। চিকিৎসকদের একাংশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করে আইনি নোটিস পাঠালেন তাঁর আইনজীবী অর্ক নাগ। ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের সেই হাই-প্রোফাইল চোট এবং বর্তমান রাজনৈতিক জলঘোলার আবহে এই আইনি নোটিস ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
কাদের পাঠানো হয়েছে আইনি নোটিস?
সোমবার সকালে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের অধিকর্তা চিকিৎসক মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায়, এমএসভিপি চিকিৎসক পীযূষকুমার রায় এবং বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের নিউরোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক অতনু বিশ্বাস— এই তিন বিশিষ্ট চিকিৎসককে দু’পাতার একটি কড়া ভাষার আইনি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আইনজীবী অর্ক নাগের জোরালো দাবি, প্রকাশ্যে আসা চিকিৎসা-সংক্রান্ত ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে অত্যন্ত অসম্পূর্ণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সেই সমস্ত রিপোর্ট বা গোপন নথি প্রকাশ করার আগে মমতার বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেই নিয়েও চিঠিতে বড়সড় প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ঠিক কী নিয়ে শুরু বিতর্ক?
সম্প্রতি নন্দীগ্রামে বিধানসভা প্রচারের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোরগোল পড়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি মেডিক্যাল নথির প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন যে, সেই সময় ফ্র্যাকচারের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং গোটা বিষয়টি নিয়ে সিআইডি (CID) তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে সেই নথি প্রকাশ্যে আনা হলে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়।
এর আগে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও জনসমক্ষে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত চিকিৎসা-নথি কীভাবে বা কার অনুমতিতে এভাবে প্রকাশ্যে চলে এল? সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র দু’দিনের মধ্যে তিন শীর্ষ চিকিৎসকের কাছে আইনি নোটিস পাঠিয়ে দিলেন মমতার আইনজীবী।
আইনি চিঠিতে কী জানতে চাওয়া হয়েছে?
আইনি নোটিসের মাধ্যমে মূলত জানতে চাওয়া হয়েছে যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো গোপনীয় নথি বর্তমান প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল কিনা। যদি তা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে উপযুক্ত আইনি নিয়ম মেনে তা করা হয়েছিল কি না, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে মমতার চিকিৎসার গোপনীয়তা লঙ্ঘিত না হয় এবং কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করা হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় এই ঘটনার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে বড়সড় আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সে তাঁর এমআরআই করানো হয়েছিল। সেই সময় হাসপাতালের মেডিকেল বুলেটিনে বাঁ পায়ের গোড়ালির হাড়ে গুরুতর চোট পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। দীর্ঘ বছর পর সেই পুরোনো চিকিৎসাজনিত তথ্য এবং রিপোর্ট ফাঁসের ঘটনা ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।