RKSY II রেশন কার্ড আছে? ঠিক কত পরিমাণ চাল-গম পান জানেন কি?

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রেশন কার্ড অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নথিপত্র। পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং সুলভ মূল্যে বা বিনামূল্যে চাল ও গম পাওয়ার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অপরিহার্য। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে মূলত পাঁচটি আলাদা ক্যাটেগরির রেশন কার্ড চালু রয়েছে—AAY, PHH, SPHH, RKSY I এবং RKSY II। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের কাছেই রয়েছে ‘RKSY II’ ক্যাটেগরির কার্ড। কিন্তু এই বিশেষ কার্ডে প্রতি মাসে ঠিক কত পরিমাণ চাল বা গম বরাদ্দ থাকে, তা নিয়ে অনেকের মনেই ধন্দ থাকে। আজ জেনে নেওয়া যাক এই সংক্রান্ত সঠিক ও বিস্তারিত হিসাব।

বাংলায় কত ধরনের রেশন কার্ড রয়েছে?

পশ্চিমবঙ্গে মোট পাঁচ প্রকারে রেশন কার্ডের প্রচলন রয়েছে:

  • AAY, PHH ও SPHH: এই কার্ডগুলি মূলত অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষদের জন্য বরাদ্দ।

  • RKSY I ও RKSY II: যাঁদের আর্থিক অবস্থা অপেক্ষাকৃত কিছুটা ভালো, তাঁদের রাজ্য সরকার ভর্তুকি দিয়ে এই ক্যাটেগরির কার্ড প্রদান করে থাকে। এর মধ্যে ‘RKSY II’ হলো একেবারে শেষ স্তরের কার্ড, যা মূলত রাজ্যের একটা বড় অংশের নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে রয়েছে।

RKSY II কার্ড কাদের জন্য এবং এতে কী পরিমাণ চাল-গম মেলে?

‘রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা ২’ বা RKSY II কার্ড মূলত এমন নাগরিকদের দেওয়া হয়, যাঁরা খুব গরিবও নন আবার অত্যন্ত ধনীও নন—অর্থাৎ যাঁদের আর্থিক পরিস্থিতি মাঝারি বা নিম্ন মধ্যবিত্ত স্তরের।

অন্যান্য ক্যাটেগরির কার্ডের তুলনায় এই কার্ডে তুলনামূলকভাবে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ কিছুটা কম থাকে। পশ্চিমবঙ্গের রেশনের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, RKSY II কার্ডধারীরা প্রতি মাসে ১ কেজি চাল এবং ১ কেজি গম পেয়ে থাকেন। তবে এলাকা ভেদে অনেক রেশন দোকানে এই কার্ডে মাথাপিছু বা প্রতি কার্ডে ২ কেজি চাল কিংবা ২ কেজি গমও দেওয়ার নজির রয়েছে। তাই আপনার এলাকার ডিলারের নির্দিষ্ট কোটা সম্পর্কে আগে থেকেই স্পষ্ট ধারণা রেখে তবেই রেশন সংগ্রহ করতে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

মিলছে অর্ধেক দামের সুজি, চিনি ও ময়দাও

রেশনের প্রচলিত চাল ও গমের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, উপভোক্তারা এখন থেকে আরও কিছু অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। রেশনের মাধ্যমে এখন অর্ধেক দামে ১ কেজি করে চিনি, ১ কেজি ময়দা এবং ২৫০ গ্রাম সুজিও দেওয়া হচ্ছে। ফলে পুজোর মরশুমে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে বড় ধরনের স্বস্তি মিলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *