১০ অক্টোবরের আগে বড় গ্রেফতারির আশঙ্কা! সরকারের ‘গোপন ছক’ ফাঁস করে চরম হুঙ্কার ককরোচ নেতার

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে আন্দোলন। আগামী ১০ অক্টোবর রাজধানীর যন্তর মন্তরে এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। বিগত তিন-চার দিন ধরে চলা এই রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই এবার সরকারের বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস। তাঁর দাবি, বিশাল ওই বিক্ষোভের আগেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারে ফন্দি আঁটছে সরকার!
গ্রেফতারির আশঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিস্ফোরক পোস্ট
রবিবার গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ একটি পোস্ট করে সৌরভ দাস দাবি করেন যে, সরকারের এই ধরনের স্বৈরাচারী পদক্ষেপ আন্দোলন দমাতে সফল হবে না। তিনি লেখেন, “সরকার আমাকে, অভিজিৎ দীপ, আশুতোষ রাঙ্কা, রত্না এবং দলের অন্যান্য নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা করছে। সরকার যদি ভাবে এই দমনপীড়ন কাজে আসবে, তবে তারা বড় ভুল করছে! দেশের তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে। আমরা সকলের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, আমরা পাশে থাকি বা না থাকি, আপনারা নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যতের জন্য লড়াই চালিয়ে যান।”
তিনি আরও স্পষ্ট ভাষায় জানান যে তাঁরা জেলের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সর্বদা প্রস্তুত, কিন্তু এই ধরপাকড় আন্দোলনকে থামাতে পারবে না। উল্টে আগামী ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলা এই কর্মসূচিতে দেশের আমজনতাকে ব্যাপক সংখ্যায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, সিজেপি আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপও মধ্যরাতের পর এক্স হ্যান্ডলে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে লেখেন, “কতজনকে গ্রেফতার করবেন অমিত শাহ? আগামী ১০ অক্টোবর পুরো দেশ রাস্তায় নামছে।”
এসআইআর বিতর্ক এবং দেশজুড়ে আন্দোলনের ঢেউ
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি মুম্বইয়ের বিখ্যাত শিবাজি পার্কে বিশাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল সিজেপি, যেখানে শিবসেনা (ইউবিটি)-র পক্ষ থেকেও সমর্থন জানানো হয়েছিল। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার এসআইআর সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে আলোচনার সময় ভিন্নমত থাকতেই পারে, তবে সমস্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত মাসে অসমে সিজেপি-র প্রথম আঞ্চলিক সম্মেলনের আগে সংগঠনের নেতা আশুতোষ রাঙ্কা সহ একাধিক সদস্যকে ১২ ঘণ্টার জন্য আটক করেছিল অসম পুলিশ। সেই সময়ও হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তাঁরা। অন্যদিকে, গত জুলাই মাসে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে দিল্লির যন্তর মন্তরে ৩৬ দিন ধরে চলা সিজেপি-র সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের ফলেই শেষ পর্যন্ত চাপে পড়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এখন দেখার, ১০ অক্টোবরের এই নতুন আন্দোলনের মোকাবিলায় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।