৫০ কোটি টাকার হেরোইন কারখানার হদিশ! লখনউয়ের বিলাসবহুল বাড়িতে এ কী চলছে জানলে শিউরে উঠবেন

দিল্লি পুলিশের এক চাঞ্চল্যকর ও அதிரূপ অভিযানে ফাঁস হয়ে গেল দিল্লি-এনসিআর থেকে উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত এক বিশাল আন্তঃরাজ্য মাদকচক্র। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের একটি বাড়ির অন্দরে সুকৌশলে গড়ে তোলা হয়েছিল হেরোইন তৈরির বেআইনি কারখানা। পুলিশ জানিয়েছে, এই সফল অভিযানে মোট ৭.০৭৬ কেজি উচ্চমানের হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
যেভাবে জালে এক এক করে পাণ্ডারা
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বেগমপুর এলাকায় গোপন সূত্রে মাদক পাচারের খবর পেয়ে অভিযান শুরু হয়। এরপর সেক্টর ৩২ থেকে একটি সন্দেহজনক গাড়ি আটক করে লক্ষ্মণ হুডা (৫৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইন এবং নগদ ৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। লক্ষ্মণকে জেরা করতেই দেশের এক বিশাল মাদক নেটওয়ার্কের হদিশ পান তদন্তকারীরা।
এর ঠিক একদিন পরেই দিল্লির রঘুবীর নগর থেকে অনিল ওরফে ভোলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় আরও ৫০১ কেজি… মাফ করবেন, ৫০১ গ্রাম হেরোইন। পুলিশের রেকর্ড বলছে, ধৃত অনিলের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি একটি মামলায় প্যারোলে জেলের বাইরে এসে আর ফেরেননি।
লখনউয়ের জানকিপুরমে হেরোইন তৈরির গোপন কারখানা
প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং গোপন খবরের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা পৌঁছে যান উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের জানকিপুরম এলাকায়। গত ৪ অক্টোবর সীতা কলোনির একটি বাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বাবলু (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর সেখান থেকেই উদ্ধার হয় ৬.২৭৫ কেজি টাটকা হেরোইন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, শুধু তৈরি মাদকই নয়, ওই কারখানা থেকে হেরোইন তৈরির নানা সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ২.৫০৪ কেজি সোডিয়াম, ৭৮৭ গ্রাম অ্যাসিটিক অ্যানহাইড্রাইড, গ্যাস সিলিন্ডার, মিক্সার গ্রাইন্ডার, বিভিন্ন পাত্র, পলিথিন এবং ইলেকট্রনিক ওজন মাপার যন্ত্র বাজেট করা হয়েছে।
১২০ কিমি ধাওয়া করে মূল পাণ্ডাকে গ্রেপ্তার
ধৃত বাবলুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই চক্রের মূল মাথা রুকসার আলি ওরফে রাজুর সন্ধান পায় পুলিশ। তাঁকে এই বেআইনি কারখানার মালিক ও মূল সরবরাহকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ ধাওয়া করে উত্তরপ্রদেশের বরেইলি থেকে তাকেও পাকড়াও করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দিল্লি-এনসিআর এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই চক্রটি চালাত অপরাধীরা। কেউ মাদক সরবরাহের দায়িত্বে ছিল, কেউ পরিবহণ দেখত, আবার কেউ সরাসরি কারখানায় রাসায়নিক দিয়ে হেরোইন তৈরিতে যুক্ত ছিল। এই মাদকচক্রের আর্থিক লেনদেন কোথায় হতো এবং কাঁচামাল কোত্থেকে আসত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং তৈরি এই বিপুল পরিমাণ মাদক ঠিক কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হতো, তা জানতে এখন জোরকদমে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।