“বৌয়ের ষড়যন্ত্র, জমি নিয়ে হুমকি দিয়েছিল!” জীবন্ত পুড়তে পুড়তে বিস্ফোরক দাবি যুবকের, মালদায় চাঞ্চল্য

রবিবার রাতের অন্ধকারে এক হাড়হিম করা ঘটনায় কেঁপে উঠল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বেজপুরা এলাকা। রাস্তা আটকে এক বাইক আরোহীর গায়ে পেট্রল ঢেলে তাঁকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠল। প্রাণে মারার এই ভয়ঙ্কর চক্রান্ত থেকে রাস্তায় গড়াগড়ি খেয়ে এবং স্থানীয়দের তৎপরতায় কোনোমতে ওই যুবক রক্ষা পেলেও পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে তাঁর বাইকটি। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল রাতে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ জাহাঙ্গীর নামের এক যুবক চাঁচল থেকে কোনুয়ার দিকে বাইক চালিয়ে নিজের বাড়ি বেজপুরায় ফিরছিলেন। ঠিক সেই সময় বেজপুরা গ্রামসংলগ্ন একটি ব্রিজের কাছে পৌঁছতেই দুজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর পথ আটকায়। অভিযোগ, প্রথমে তাঁকে হাত দেখিয়ে বাইক দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়। এরপর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীরা তাঁর গায়ে পেট্রল ঢেলে সজোরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
আগুন ধরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে রাস্তায় গড়াগড়ি দিতে শুরু করেন জাহাঙ্গীর। তাঁর চিৎকার ও আর্তনাদ শুনে আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে আসেন এবং দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে থাকা অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আগুনে তাঁর বাইকটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।
পারিবারিক বিবাদের দিকেই কি ইঙ্গিত?
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জখম জাহাঙ্গীর নিজেই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, “আমি চাঁচল থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। ব্রিজের কাছে দু’জন দাঁড়িয়ে আমায় হাত দেখিয়ে থামতে বলে। আমি দাঁড়াতেই দেখি আমার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমার স্ত্রীর সঙ্গেই দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। জমি নিয়ে আমাকে আগে থেকেই হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আমার জোরালো সন্দেহ, এই ঘটনার নেপথ্যে স্ত্রীরই হাত রয়েছে।”
ঘটনার খবর পেয়েই তৎক্ষণাৎ আসরে নামে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং পারিবারিক বা জমিকেন্দ্রিক কোনো পুরনো শত্রুতার জেরে এই সুপরিকল্পিত হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।