বড়া ভাজলেই কি নেতিয়ে যায়? মাছের ডিমে জাস্ট এই ছোট্ট উপকরণটি মিশিয়ে দেখুন, ঘন্টার পর ঘন্টা থাকবে মুচমুচে!

মাছপ্রেমী বাঙালির কাছে মাছের ডিমের যেকোনো পদই অমৃত সমান। গরম ভাতে মাছের ডিমের বড়া ভাজা হোক কিংবা জম্পেশ ঝোল— নাম শুনলেই জিভে জল আসে ভোজনরসিকদের। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, মাছের ডিমের বড়া যতই মুচমুচে করে ভাজা হোক না কেন, নামানোর কিছুক্ষণ পরেই তা নরম হয়ে নেতিয়ে যায়। তবে সামান্য কিছু কৌশল জানা থাকলে এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বড়া মুচমুচে রাখার জাদুকরী উপায় জেনে নিন:
কীভাবে তৈরি করবেন পারফেক্ট বড়া?
বড়া তৈরির জন্য রুই বা কাতলা মাছের ডিম সবচেয়ে ভালো। বাজার থেকে ডিম এনে প্রথমে তা ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন।
মাছের ডিম যে পাতলা পর্দায় আবৃত থাকে, তা হাত দিয়ে ভালো করে কচলে সরিয়ে দেওয়া জরুরি।
বড়ার স্বাদ দ্বিগুণ করতে পেঁয়াজ কুচি অত্যন্ত মিহি করে কাটতে হবে।
গোপন উপকরণ ও সঠিক মাপ
মাছের ডিমে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচালঙ্কা কুচি, পরিমাণমতো নুন ও হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। যদি মাছের ডিম একেবারে তাজা হয়, তবে আলাদা করে আদা-রসুন বাটা মেশানোর প্রয়োজন নেই। তবে ডিম যদি কয়েকদিন ধরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা থাকে, তবেই সামান্য আদা-রসুন ব্যবহার করতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ডিম ভাজার ঠিক আগে এই মিশ্রণে সামান্য ময়দা মিশিয়ে নেওয়া। ২৫ গ্রামের বেশি ময়দা মেশাবেন না, অন্যথায় বড়া ভেঙে যেতে পারে। ময়দা মেশানোর ফলে মিশ্রণের বাঁধন যেমন শক্ত হয়, তেমনই মাছের আঁশটে গন্ধও দূর হয়।
এবার কড়াইতে সর্ষের তেল ভালো করে গরম করে মাঝারি আঁচে মিনিট পাঁচেক উল্টেপাল্টে ভেজে নিন। এই ছোট্ট কৌশলটি মানলেই বড়াগুলো দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত একেবারে মুচমুচে ও সুস্বাদু থাকবে। এই বড়া আপনি যেমন স্ন্যাক্স হিসেবে স্রেফ ভাজা খেতে পারেন, তেমনই পেঁয়াজ-রসুন দিয়ে এর সুস্বাদু ঝোলও বানিয়ে নিতে পারেন।