অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে? এই ভুলগুলি করলেই কিন্তু আগামী মাসে নাম কাটবে তালিকা থেকে!

গত মাসে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhander) প্রকল্পের ৩ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে বলে নিশ্চিন্তে বসে থাকার দিন শেষ। আপনি যদি গত মাসে টাকা পেয়ে থাকেন, তবে অক্টোবর মাসেও যে অবিকল একই ভাবে টাকা পাবেন, এমনটা ধরে নেওয়া একেবারেই ঠিক হবে না। কারণ রাজ্যজুড়ে এই প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা নিয়ে এখনও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই বা ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে। যদি তদন্তে কেউ অযোগ্য বলে প্রমাণিত হন, তবে পরবর্তী কিস্তির টাকা চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী মালতি রাভা রায়।

মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা ও এনকোয়ারির কড়া নিয়ম
গত ১৭ আগস্ট বহু উপভোক্তা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা হাতে পেলেও প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যজুড়ে এখনও বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনকোয়ারি বা তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী মালতি রাভা রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরবর্তীতে যদি দেখা যায় কোনো মহিলা এই প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মে অযোগ্য, তবে অবিলম্বে তাঁর নাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, একবার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গেলেই যে এই সরকারি সুবিধা চিরস্থায়ী হয়ে গেল, বিষয়টি এমন নয়।

কাদের নাম বাদ যেতে পারে তালিকা থেকে?
সরকার নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত অনুযায়ী, যাঁরা এই প্রকল্পের প্রকৃত যোগ্য নন, তাঁদের নাম ভেরিফিকেশনের পর বাদ দেওয়াটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে নিচের কারণগুলির জন্য বড় বিপদে পড়তে পারেন আবেদনকারীরা:

অনলাইনে আবেদন করার সময় কোনো ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা।

ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা কিংবা জমা দেওয়া নথির সঙ্গে আসল তথ্যের অমিল থাকা।

জুলাই মাসেই মন্ত্রী মালতি রাভা রায় সতর্ক করে জানিয়েছিলেন যে, বহু আবেদনকারী তথ্য গোপন করেছেন বলে তাঁদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সেইমতো বর্তমানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রকল্পের মূল যোগ্যতা ও কারা বাদ পড়ছেন?
অন্নপূর্ণা যোজনার নিয়ম অনুযায়ী মূলত ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। তবে কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণি এই প্রকল্পের আওতার বাইরে রয়েছেন। যেমন— স্থায়ী সরকারি কর্মী, নিয়মিত সরকারি বেতন বা পারিবারিক পেনশনভোগী এবং যাঁরা নিয়মিত আয়কর দেন, তাঁরা এই সুবিধার যোগ্য নন। আবেদনপত্র যাচাইয়ের সময় এই সমস্ত মাপকাঠি অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে আপনার তথ্য যদি সরকারি নিয়মের সঙ্গে না মেলে, তবে আগামী দিনে বড়সড় আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারেন আপনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *