লিভ-ইন থেকে বহুবিবাহ— কড়া নিয়মে বাঁধল কোন রাজ্য? জেনেনিন UCC নিয়ে বড় আপডেট

উত্তরাখণ্ডের পর এবার দেশের আরও একটি রাজ্যে বাস্তবায়িত হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC)। গুজরাট বিধানসভায় গত মার্চ মাসে পাশ হওয়া বহুল আলোচিত ‘ইউসিসি’ বিলটিতে অবশেষে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের গেজেটেও এই অনুমোদনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার সমস্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পূর্ণ হলো। তবে ঠিক কোন দিন থেকে এই নতুন আইনটি কার্যকর করা হবে, তা খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। নতুন এই আইনের জেরে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন সম্পর্কের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলি এবার একটি অভিন্ন কঠোর আইনি কাঠামোর আওতায় চলে আসছে।

ইউসিসি (UCC)-র মূল বৈশিষ্ট্য ও নিয়মাবলী
গত ২৪ মার্চ গুজরাট বিধানসভায় এই ইউসিসি বিল পাশ হয়েছিল। রাজ্য সরকারের মূল বক্তব্য হলো, ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে রাজ্যের সমস্ত নাগরিকের জন্য দেওয়ানি বিষয়ে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরি করাই এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য। নতুন এই ব্যবস্থায় বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া বিধান রাখা হয়েছে:

বাধ্যতামূলক বিয়ে ও বহুবিবাহে নিষেধাজ্ঞা: নতুন নিয়মে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন বা নথিপুত্র তৈরি করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিয়ে নথিভুক্ত না করলে আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া পুরুষের ন্যূনতম বিয়ের বয়স ২১ বছর এবং মহিলার ১৮ বছর বয়সসীমা কঠোরভাবে বহাল রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন দ্বিতীয়বার বিয়ের আর কোনো সুযোগ থাকবে না, অর্থাৎ বহুবিবাহের ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আইনি কাঠামোর মধ্যে লিভ-ইন সম্পর্ক: বর্তমান সময়ের কথা মাথায় রেখে গুজরাটের ইউসিসি-তে লিভ-ইন সম্পর্ককেও নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। এখন থেকে বিয়ে না করে একসঙ্গে বসবাসকারী যুগলদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই সম্পর্কের রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে যৌথ ঘোষণা জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি পরবর্তীতে সম্পর্ক ভেঙে গেলেও তার যথাযথ তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানানোর নিয়ম করা হয়েছে।

উত্তরাধিকার সূত্রে সমান অধিকার: সম্পত্তি বা উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। কোনো ব্যক্তি উইল না করে মারা গেলে তাঁর স্ত্রী বা স্বামী, সন্তান এবং বাবা-মায়ের সম্পত্তিতে সমান উত্তরাধিকারের অধিকার থাকবে। ছেলে ও মেয়ের মধ্যে উত্তরাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য রাখা হয়নি। পাশাপাশি দত্তক সন্তান, বিয়ের বাইরে জন্ম নেওয়া সন্তান এবং সহায়ক প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তানদেরও সমান আইনি অধিকার স্বীকার করা হয়েছে। নারীদেরও সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সমান অধিকার দিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

কাদের জন্য প্রযোজ্য নয় এই আইন?
তবে গুজরাটের এই নতুন ইউসিসি আইনের পরিধি সকলের ক্ষেত্রে এক নয়। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী বিশেষ সুরক্ষা প্রাপ্ত নির্দিষ্ট তফসিলি জনজাতি বা ‘Scheduled Tribes’-কে এই আইনি বিধানের আওতা থেকে সম্পূর্ণভাবে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সম্মতির সুবাদে এই বিল আইনি স্বীকৃতি পেলেও, এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নির্ভর করছে রাজ্য সরকারের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির ওপর। সেই বিজ্ঞপ্তি এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন প্রকাশিত হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যে কীভাবে বাস্তবে এই নিয়মগুলি সাধারণ মানুষের জীবনে কার্যকর হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *