উপচে পড়া ভিড় থেকে দূরে পুজোর নিখুঁত ঠিকানা! পাহাড়ের কোলে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে ঘুরে আসুন ফুরনগাঁওয়ে

পুজোর মরশুম মানেই ব্যাগপত্তর গুছিয়ে কোথাও বেরিয়ে পড়ার পরিকল্পনা। আর ছুটির কথা মাথায় আসলেই বাঙালির চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাহাড়ের সবুজ উপত্যকা আর মেঘের মেলা। তবে বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে যেভাবে উপচে পড়া ভিড় বাড়ছে, তাতে প্রকৃতির প্রকৃত শান্তি উপভোগ করা যেন একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শহরের কোলাহল ও চেনা ভিড় এড়িয়ে যদি আপনি একান্তই কিছু মুহূর্ত নিস্তব্ধতায় কাটাতে চান, তবে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতেই পারে উত্তরবঙ্গের এক্কেবারে স্বল্প পরিচিত গ্রাম ফুরনগাঁও।

কোথায় অবস্থিত এই সুন্দর জনপদ?
কালিম্পংয়ের জনপ্রিয় সিলিরিগাঁওয়ের ঠিক কাছেই অবস্থিত এই ছোট্ট ও মনোরম জনপদটি। যেহেতু এটি সিকিম সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত, তাই সিকিম বেড়াতে যাওয়ার পথে কিংবা সেখান থেকে ফেরার সময় এখানে অনায়াসেই এক রাত কাটিয়ে নেওয়া যায়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই রুট দিয়ে সাধারণ পর্যটকদের যাতায়াত তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। ফলে এখানকার আদি ও অকৃত্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশ এখনও সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

ফুরনগাঁওয়ে কী কী দেখবেন বা করবেন?
এই অফবিট গ্রামে গেলে শহরের মতো কোনো জাঁকজমকপূর্ণ দর্শনীয় স্থান বা দীর্ঘ পর্যটক তালিকা হয়তো আপনি পাবেন না। তবে এখানকার আসল আকর্ষণ হলো এর অপরূপ নিস্তব্ধতা। সকালের সোনালী রোদে গ্রামের মেঠো পথে খানিকটা হেঁটে নেওয়া কিংবা ক্লান্ত দুপুরে আশেপাশের সবুজ চাষের জমিতে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা দারুণ। এছাড়া গাড়ি নিয়ে একটু ঘুরে নিতে চাইলে কাছেই রয়েছে রংপো নদী এবং আকর্ষণীয় তিস্তা ভিউ পয়েন্ট।

ভ্রমণের এই পথে আপনার চোখে পড়তে পারে হরেক রকমের পাহাড়ি পাখি, বুনো ময়ূর কিংবা হরিণ। সন্ধ্যার দিকে পাহাড়ি নদীর বয়ে চলার কুলকুল শব্দ এবং ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক এই জায়গার পরিবেশকে এক জাদুকরী রূপ দেয়। পাশাপাশি, এখানকার হোমস্টেগুলিতে পর্যটকদের জন্য বিশেষ বনফায়ার (Bonfire)-এর ব্যবস্থাও রয়েছে।

থাকার ব্যবস্থা ও খাওয়াদাওয়া
এই গ্রামে গিয়ে কোনো বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল বা রিসর্ট হয়তো আপনি পাবেন না, তবে থাকার জন্য রয়েছে বেশ কিছু চমৎকার ও আরামদায়ক হোমস্টে। তবে ছুটির মরশুমে শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে যাওয়ার আগেই হোমস্টে বুকিং করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিশেষ ব্যাপার হলো, এখানকার প্রতিটি হোমস্টেতেই অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য স্থানীয় খামারে ফলানো টাটকা ও জৈব শাকসবজি দিয়ে রান্না করা সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, যা আপনার পাহাড়ি ভ্রমণের স্বাদ দ্বিগুণ করে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *