‘কার্জন গেটের রাস্তা নোংরা করলে ছাড়ব না!’ বর্ধমানে আচমকা হানা দিয়ে মেজাজ হারালেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল

রাজ্যে ফুটপাথ দখলমুক্ত করা এবং শহরকে জঞ্জাল ও আবর্জনামুক্ত করে তোলার বিষয়ে প্রথম থেকেই অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বাংলা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তোলার ডাক দিয়ে তিনি বারবার মাঠে নেমেছেন। আর এবার আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে বর্ধমানের প্রাণকেন্দ্রের ছবি দেখে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মন্ত্রী। অত্যন্ত কড়া ভাষায় বিসি রোড (BC Road) দখলমুক্ত করার জন্য কড়া ডেডলাইন বেঁধে দিলেন তিনি।
কার্জন গেটের রাস্তা পরিদর্শনে মেজাজ হারালেন মন্ত্রী
শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রয়েছে কি না এবং বেআইনি পার্কিং বা জবরদখলের মতো সমস্যাগুলি খতিয়ে দেখতে মাঝেমধ্যেই আচমকা পরিদর্শনে বের হন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। গতকাল তেমনই এক আকস্মিক সফরে তিনি হাজির হয়েছিলেন বর্ধমানের ঐতিহাসিক বিসি রোড ও কার্জন গেট চত্বরে। আর সেখানে পৌঁছানোর পরেই রাস্তার দু’ধারে বেআইনি পার্কিং এবং হকারদের দৌরাত্ম্য দেখে তাঁর মেজাজ চড়ে যায়।
ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই কার্জন গেটের রাস্তা ঐতিহাসিক। এটিকে বর্ধমানের জানলাও বলা যেতে পারে। এই রাস্তাটি কেউ নোংরা করবেন না। রাস্তায় রাস্তায় ডাস্টবিন বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ড্রেনে স্ল্যাব না থাকলে তারও বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। কিন্তু পার্কিং হতে হবে নিয়ম মেনে। এক গাড়ি ডানে আর অন্য গাড়ি বাঁয়ে—এমন বিশৃঙ্খলা চলবে না। পুলিশ আধিকারিকদের সব বুঝিয়ে বলে এসেছি। আগামী পরশুদিন আমি ফের আসব। তখন যেন দেখি কার্জন গেটের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত একেবারে ঝকঝক করছে!”
ফুটপাথ ও রাস্তার ওপর জবরদখল নিয়ে কড়া বার্তা
বর্ধমান শহরের বিসি রোডের ফুটপাথ জবরদখলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ীদের একাংশ ফুটপাথ তো বটেই, এমনকি মূল রাস্তার কিছু অংশও দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময়ও চোখে পড়ে রাস্তার দু’ধারে যত্রতত্র সাইকেল ও বাইক সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে, যার জেরে সাধারণ পথচারী ও যান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
এই চরম অব্যবস্থা দেখেই পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিককে কঠোর নির্দেশ দেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ফুটপাথের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জায়গা অবশ্যই সাধারণ পথচারীদের হাঁটার জন্য সম্পূর্ণ ফাঁকা রাখতে হবে। বিসি রোডের ওপর অপরিকল্পিতভাবে রাখা সমস্ত সাইকেল ও বাইক অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি, রাস্তার কোথাও যেন এক টুকরো নোংরা-আবর্জনাও না পড়ে থাকে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আগামী দু’দিনের মধ্যে বর্ধমানের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম রাস্তাকে পুরোপুরি দখলমুক্ত ও পরিষ্কার করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী।