দুর্গাপুজোর ডে-ট্রিপ! নদী, ইতিহাস আর রাজবাড়ির আমেজে সেজে ওঠা বড়নগরের রাজরাজেশ্বরী মন্দির

মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক রাজবাড়ি ও জমিদার বাড়ির জমকালো ইতিহাসের পাশাপাশি এবার দুর্গাপুজোয় একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসতেই পারেন বড়নগরের বিখ্যাত রাজরাজেশ্বরী মন্দির থেকে। দুর্গাপুজোর কদিন ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় ও পুণ্যার্থীদের সমাগমে জমজমাট হয়ে ওঠে অন্যতম সেরা এই পর্যটন কেন্দ্রটি। এবছর পুজোর পাঁচদিনের ছুটির মধ্যে হাতে সময় নিয়ে একদিনের ডে-ট্রিপে ঘুরে আসতেই পারেন এই প্রাচীন মন্দিরে।

কয়েকশো বছর আগে বড়নগর ছিল অবিভক্ত বাংলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র ও আকর্ষণীয় পর্যটনস্থল। এই প্রাচীন পুজো এবং ঐতিহ্যবাহী মেলাকে কেন্দ্র করে জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জের মৃতপ্রায় পর্যটন শিল্পকে নতুন করে জাগিয়ে তোলা এবং তার প্রসার ঘটানোই এর অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, গত দু’বছর আগেই দেশের সেরা পর্যটন গ্রামের তকমা পেয়েছে এই ঐতিহাসিক বড়নগর গ্রাম।

৩০ বছর মালখানায় বন্দি থাকার ইতিহাস
স্থানীয় ও ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ত্রিশ বছর আগে রানি ভবানীর বড়নগরের বাড়ি সংলগ্ন এক পরিত্যক্ত মন্দির চত্বর থেকে চুরি হয়ে গিয়েছিল পিতলের তৈরি মহামায়া রাজরাজেশ্বরী মূর্তিটি। পরবর্তীতে পুলিশ ওই মূর্তিটি উদ্ধার করলেও দীর্ঘ তিন দশক ধরে জিয়াগঞ্জ থানার মালখানাতেই অবহেলায় পড়েছিল সেটি। আইনি ও অছিপরিষদের নিরলস তৎপরতায় বহু বছর পর সেই মূর্তিটি উদ্ধার করে নবনির্মিত মন্দিরে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়।

রানি ভবানীর বর্তমান বংশধর অশীতিপর বৃদ্ধা শুভশ্রী বাগচীর ব্যক্তিগত ৬ লক্ষ টাকা অনুদানে মন্দিরটি নতুনভাবে সংস্কার করা হয়। তারপর থেকেই এই মন্দিরে প্রতিদিন অত্যন্ত নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে দেবীর নিত্যসেবা ও পুজো চালছে।

পুজো ও ভোগের বিশেষ ব্যবস্থা
ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরে দুর্গাপুজো উপলক্ষে পাঁচদিন ধরে চলে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান। শুধু তাই নয়, পুজো উপলক্ষে ভক্তদের জন্য সুব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষ ভোগ বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়। আপনি চাইলে পুজোর দিনগুলিতে সপরিবারে এই মন্দিরে এসে দেবীর প্রসাদ গ্রহণ করতে পারেন।

আসন্ন দুর্গাপুজোর ছুটিতে মুর্শিদাবাদে ঘুরতে গেলে নদীর হাওয়া, প্রাচীন রাজবাড়ির ইতিহাস আর আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব মিশ্রণ পেতে অবশ্যই আপনার ভ্রমণ তালিকায় রাখুন ভাগীরথীর তীরের এই ঐতিহাসিক রাজরাজেশ্বরী মন্দিরকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *