রাহুলের প্রধানমন্ত্রিত্বে আপত্তি নেই মমতার! ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে বড় বার্তা দিয়ে কীসের ইঙ্গিত দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো?

জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত! বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সাম্প্রতিক বৈঠকে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন জোটের অন্দরে প্রধানমন্ত্রী মুখ হিসেবে তৃণমূল নেত্রীর নাম নিয়ে নানা গুঞ্জন ও দরকষাকষি চললেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তিনি যে বেশ নমনীয় মনোভাবাপন্ন, তা এই বৈঠকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই এই অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হলো?
সূত্রের খবর, কনস্টিটিউশন ক্লাবের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কংগ্রেস চাইলে প্রধানমন্ত্রী পদ পেতেই পারে এবং এ বিষয়ে তাঁর কোনো ‘ইগো’ বা অহংকার নেই। তবে তাঁর শর্ত, যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, তা যেন সকলের সঙ্গে আলোচনা ও সহমতের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়।
এর জবাবে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে জানান, কংগ্রেস দল কেবল ক্ষমতার জন্য বা পদের লোভে লড়াই করছে না, তাদের মূল লক্ষ্য দেশ ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করা। বৈঠকে কেরলের উদাহরণ টেনে রাহুল গান্ধীও বার্তা দেন যে, রাজ্য স্তরে বিরোধ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে বৃহত্তর ঐক্যের দায়বদ্ধতা সকলকে মেনে চলতে হবে।
আগের অবস্থান থেকে বড় বদল
অতীতে জাতীয় রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সামনে আনার ক্ষেত্রে তৃণমূল নেতৃত্বের সুর যথেষ্ট চড়া ছিল। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার নিরিখে রাহুল গান্ধীর চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক এগিয়ে রয়েছেন—এমন দাবিও অতীতে করা হয়েছিল। এমনকি জোটে কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য কিংবা রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী মুখ হিসেবে তুলে ধরার বিষয়েও দলের অন্দরে আপত্তি দেখা গিয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য রাজনীতিতে ইভিএম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিতর্ক এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলির সমর্থন অনেকটাই কাছাকাছি এনেছে তৃণমূল ও কংগ্রেস শিবিরকে। দক্ষিণ কলকাতায় আগুন লেগে ইভিএম পুড়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে এই প্রক্রিয়ার ‘সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী’ বা বিগেস্ট সাফারার হিসেবে দাবি করেন। তাঁর এই ভোট চুরির অভিযোগকে বৈঠকে সমর্থন জানান রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদবের মতো নেতারা।
উদ্ধব ঠাকরে ও অন্যান্য নেতাদের মন্তব্য
বৈঠকে তৃণমূল ভাঙানোর চেষ্টার প্রসঙ্গও জোরালোভাবে তোলেন শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) নেতা উদ্ধব ঠাকরে। তাঁর দাবি, অতীতে যেভাবে তাঁর দল ভাঙার ছক কষা হয়েছিল, বর্তমান সময়ে ঠিক একই কায়দায় তৃণমূলকে ভাঙার চেষ্টা চলছে। জম্মু ও কাশ্মীরের নেতা ওমর আব্দুল্লাও পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বক্তব্য রাখেন।
সব মিলিয়ে, জোটের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সোনিয়া গান্ধীকে উপহার দেওয়া থেকে শুরু করে রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে মমতার এই নমনীয় মনোভাব—জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্যের এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল।