“আবার লড়াইয়ে নামতে হবে!” অর্থ দপ্তরের ডিএ হিসাব নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) বা ডিএ সংক্রান্ত অর্থ দপ্তরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। নতুন এই নির্দেশিকা প্রকাশের পর থেকেই সরকারি কর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আর এই ইস্যুতেই এবার সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’। সংগঠনের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কঠোর বার্তা দিয়ে ফের বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

কী নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো রাজ্য সরকারি কর্মীদের পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া অর্থ ধীরে ধীরে মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি এই বিষয়ে অর্থ দপ্তর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, গ্রুপ এ, বি এবং সি শ্রেণির কর্মী ও আধিকারিকদের বকেয়া ডিএ-র সম্পূর্ণ অংশ তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ড ফান্ড বা জিপিএফে জমা করা হবে। তবে এই তহবিল থেকে ভবিষ্যতে টাকা তোলার সময় আয়কর বা ইনকাম ট্যাক্স কাটা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাশাপাশি, বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যদি ভুলবশত কোনো কর্মচারীকে অতীতে অতিরিক্ত বা ওভারড্রল টাকা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা তোলার সময় হিসাব করে বাদ দিয়ে দেওয়া হবে। এই নিয়ম নিয়েই শুরু হয়েছে যত আপত্তি।

সরকারের হিসাব পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন
অর্থ দপ্তরের এই হিসাব পদ্ধতি এবং বকেয়া মেটানোর নির্দেশিকা সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী বলে দাবি করেছেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ের বকেয়া নির্ণয় নিয়ে গোলমাল রয়েছে। এর আগে বকেয়া মেটানোর সময় সম্পূর্ণ পাওনা না দিয়ে দায় সারা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী হয়তো এক শতাংশ টাকাও সঠিকভাবে না দিয়ে পুরো বকেয়া মেটানোর রাস্তা পাকা করেছে অর্থ দপ্তর।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আগের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে ভাস্করবাবু জানান, ভুলের কথা বলা হলে মুখ্যমন্ত্রী নিজে সামনে থেকে অর্থ সচিবকে সঠিক হিসাবে বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান নির্দেশিকা তার সম্পূর্ণ বিপরীত বলে তাঁর অভিযোগ। সরকারের এই মনোভাব চলতে থাকলে ফের সংঘাতের পথেই হাঁটতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে, অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা AICPI-এর আসল হিসাব বনাম অর্থ দপ্তরের হিসাবের ফারাক তুলে ধরে দুটি ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি।

সরব কনফেডারেশনও
শুধু সংগ্রামী যৌথ মঞ্চই নয়, ওভারড্রলের যুক্তি দেখিয়ে টাকা কাটার এই নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ‘কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ও। তাঁর অভিযোগ, সর্বভারতীয় মূল্যসূচক বা AICPI অনুযায়ী বকেয়া ডিএ-র সঠিক হিসাব কষেনি রাজ্য সরকার। এর ফলে কর্মীরা তাঁদের প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মালহোত্রা কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পুজোর আগে ডিএ-র জট কাটতে না কাটতে কর্মচারীদের এই অসন্তোষ রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাপ বাড়াতে শুরু করেছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *