প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে বলতে সোজা রেললাইনে! পাটনায় তরুণের মর্মান্তিক পরিণতিতে চাঞ্চল্য

বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে এক চরম মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে, যা এক মুহূর্তে স্তব্ধ করে দিয়েছে একটি সাধারণ পরিবারকে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পাটনায় বসবাসকারী ২১ বছর বয়সি এক তরুণ ছাত্র ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন। রাজেন্দ্র নগর টার্মিনাল এবং গুলজারবাগ স্টেশনের মধ্যবর্তী লাইনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, আত্মহত্যার ঠিক আগে ওই ছাত্র তাঁর প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন এবং সেই সময়ই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনায় মৃতের পরিবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর প্রেমিকা ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

ভিডিও কলের মাঝেই জীবনের সমাপ্তি
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত পিন্টু কুমার মূলত খাগাড়িয়া জেলার দিলদার থানা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তবে পড়াশোনার খাতিরে তিনি পাটনার বাজার সমিতি এলাকায় একটি মেস বা ভাড়া বাড়িতে থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই সময় থাকাকালীন খাগাড়িয়ারই এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত কথাবার্তা চললেও গত কয়েকদিন ধরে ওই তরুণী নাকি পিন্টুর ফোন ধরা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরিবার ও পুলিশের অনুমান, এই অবহেলা ও মানসিক দূরত্ব পিন্টুকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন ওই ছাত্র তাঁর প্রেমিকাকে একটি ভিডিও কল করেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, সেই কথোপকথনের সময় তিনি আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করেন এবং লাইভের মাধ্যমেই মেয়েটিকে রেললাইনের দৃশ্য দেখান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজেন্দ্র নগর টার্মিনাল ও গুলজারবাগ স্টেশনের মধ্যবর্তী ৫৩৮ ও ২৮-২৯ নম্বর পোল সংলগ্ন এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন পিন্টু।

জিআরপি-র পদক্ষেপ ও পরিবারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
খবর পেয়ে রাজেন্দ্র নগর রেলওয়ে পুলিশ বা জিআরপি-র একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। পিন্টুর মোবাইল ফোন এবং এর সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ এই তদন্তের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে। ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং ভিডিও কলের আসল রহস্য ভেদ করতে পুলিশ সমস্ত ডেটা উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

ঘটনাটি আকস্মিক হলেও পিন্টুর কাছ থেকে ঘটনাস্থলে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। তবে মৃতের পরিবার সরাসরি তাঁর প্রেমিকা এবং আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজেন্দ্র নগর জিআরপি থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেছে। পরিবারের তীব্র অভিযোগ, ওই তরুণীর মানসিক অত্যাচার ও উপেক্ষার কারণেই পিন্টু চরম মানসিক অবসাদে ভুগে এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে সেই ভিডিও কল
রাজেন্দ্র নগর জিআরপি-র ইনচার্জ দীপ নারায়ণ জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে তাঁরা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে ঘটনার প্রতিটি দিক সমানভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার ঠিক আগে দুজনের মধ্যে কী কথা হয়েছিল এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে পিন্টু রেললাইনের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন, তা পরিষ্কার করতে ওই তরুণীকে শীঘ্রই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুলিশ বর্তমানে ওই তরুণীর সন্ধান চালাচ্ছে এবং তাঁর বয়ান থেকেই এই মামলার জট খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। মোবাইল ডেটা, ভিডিও কলের রেকর্ড ও ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে এই রহস্যের প্রকৃত সত্য দ্রুত সামনে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তরতাজা এক যুবকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং শোকার্ত পরিবার দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *