“মাটি থেকে আকাশে উঠবে আন্দোলন!” প্রতীক হারানোর পরেই দিল্লির মঞ্চ থেকে বিস্ফোরক হুংকার মমতার

দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের মেগা বৈঠক শেষ হতেই জাতীয় রাজনীতিতে পারদ চড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে প্রতীক হারানোর বেদনা ও রাজ্যে বিপর্যয়ের ধাক্কা, অন্যদিকে ২১টি বিরোধী দলের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে এদিন দিল্লির মঞ্চ থেকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে পাওয়া গেল বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি ইভিএম (EVM) কারচুপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিনের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিহার থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গ—সর্বত্রই ভোট চুরি করে জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাটি থেকে উঠে আকাশে যাবে এই আন্দোলন। জীবন দিয়ে দেব, তবুও লড়ব।” একইসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করে তিনি বলেন, অবিলম্বে পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।
কী বললেন মমতা? বৈঠকের আলোচনা প্রসঙ্গে মমতা জানান, বিরোধী দলগুলি এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ একজোট রয়েছে। তবে নিজের দলের কঠিন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁদের কার্যত গৃহবন্দী করে রাখা হচ্ছে এবং বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় স্তরের বিরোধী নেতাদের কাছে সাহায্যের আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান রক্ষা করতে এবং ভোট চুরির বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে কোমর বেঁধে নামতে হবে।
কিসের ভিত্তিতে এই ক্ষোভ? মমতার দাবি, ইভিএম নিয়ে বিস্তর কারচুপি হয়েছে এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কাজে লাগিয়ে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু মমতাই নন, এদিনের বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীও নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। খাড়গে জানান, আগামী ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন অভিযান ও দেশজুড়ে ‘সেভ ডেমোক্রেসি মার্চ’-এর ডাক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে পাঁচটি বড় জনসভার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হবে।
উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে দিল্লির এই বৈঠক এবং বিরোধী শিবিরের এই আক্রমণাত্মক রণকৌশল যে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে এক বিরাট সংঘর্ষের আবহ তৈরি করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।