সব শেষ! বন্যায় জল নামার পরেই মালদায় শুরু নদীর ভয়ংকর গ্রাস, দিশেহারা রতুয়ার গ্রামবাসী

মালদার রতুয়ায় গঙ্গার জল নামতেই শুরু হয়েছে চরম তাণ্ডব। বনধের জল সরে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বদলে আরও বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। বুধবার ভোরবেলা থেকেই গঙ্গার তীব্র ভাঙনে মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ২০-২২টি স্থায়ী ও অস্থায়ী বাড়ি, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি মনসা মন্দির। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা সাধারণ মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের জিতুটোলা ও মুলিরামটোলা এলাকায় ব্যাপক বন্যা হয়েছিল। মানুষজন ত্রাণের আশ্রয় শিবির থেকে সবেমাত্র নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, নদীর জল কমতে শুরু করলে পলি ও বালির স্তরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে তীরবর্তী অঞ্চলে তীব্র ভাঙন দেখা দেবে। বুধবার ঠিক সেই আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হয়। ভোর চারটে থেকে শুরু হওয়া ভাঙনের জেরে জিতুটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মুলিরামটোলা স্কুলের একটি বড় অংশ চোখের পলকে তলিয়ে যায় নদীর জলে। ফলে ওই এলাকার শ’তিনেক কচিকাঁচার ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি অনিশ্চিত ও অন্ধকারের মুখে।
ঘটনার আকস্মিকতায় ভেঙে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। সর্বস্ব হারানো দীপেন মণ্ডল ও আদুরি মণ্ডলের মতো স্থানীয়রা জানান, চোখের সামনে তাঁদের সাধের ঘরবাড়ি নদীর জলে তলিয়ে যেতে দেখলেও কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেনি। ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার কথা বলা হলেও, এই মুহূর্তে সেচ দফতরের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই বলেই জানানো হয়েছে। চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পার্শ্ববর্তী বীরুটোলা, কাটাহা দিয়ারা ও সুদামটোলা এলাকার বাসিন্দারাও। গঙ্গার এই নির্মম আগ্রাসনে মুহূর্তের মধ্যে বহু মানুষের বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নেওয়ায় গোটা এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।