প্রেমের আড়ালে বিষাক্ত পুরুষতন্ত্র! ভারতীয় সিনেমার এই অন্ধকার দিকটা কি আপনার চোখে পড়েছে?

রূপোলি পর্দার রোম্যান্স মানেই চোখের চাউনিতে জাদু, বৃষ্টির ছাঁটে প্রেম নিবেদন কিংবা ভালোবাসার জন্য সব কিছু বাজি রেখে দেওয়ার আকুলতা। কিন্তু সাম্প্রতিককালের ভারতীয় সিনেমা কিংবা ওয়েব সিরিজের দিকে একটু গভীরে তাকালে চোখে পড়ে এক অন্য ও ভয়ের চিত্র। পর্দায় যাকে নিখাদ প্রেম বা হিরোইজম বলে দেখানো হচ্ছে, তার আড়ালে ধীরে ধীরে বাসা বাঁধছে বিষাক্ত পুরুষতন্ত্র বা ‘টক্সিক মাসকুলিনটি’।
চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে নায়কদের একচ্ছত্র আধিপত্য, জেদ, অসম্মান এবং কখনো কখনো মানসিক বা শারীরিক আগ্রাসনকে ‘অগাধ ভালোবাসার’ নিদর্শন হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই ধরনের চরিত্রগুলি কি আদতে সুস্থ সম্পর্কের বার্তা দিচ্ছে, নাকি তরুণ প্রজন্মের মনে ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে?
পর্দায় রোম্যান্সের নামে আসলে কী দেখানো হচ্ছে? সিনেমার পর্দায় অনেক সময়ই দেখা যায়, নায়িকা বারবার না বললেও নায়ক তার পেছনে লেগে রয়েছে, জোর করে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে কিংবা সম্পর্কে অতিরিক্ত পজেসিভনেস বা নিয়ন্ত্রণ কায়েম করছে। রিয়েল লাইফে যাকে স্পষ্ট ভাষায় ‘স্টকিং’ বা মানসিক হেনস্থা বলা হয়, সেলুলয়েডের জাদুতে তাকেই অনেক সময় ‘সত্যিকারের ভালোবাসা’ বা প্যাশন বলে মহিমান্বিত করা হয়। বক্স অফিসে এই ধরনের ছবিগুলো দারুণ ব্যবসা করায় নির্মাতারাও বারবার একই ফর্মুলায় ছবি তৈরি করে চলেছেন।
এর প্রভাব পড়ছে কোথায়? মনোবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সিনেমা সমাজের দর্পণ। পর্দায় যখন দিনের পর দিন এই ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক বা হিরোচিত বলে দেখানো হয়, তখন বিশেষ করে কমবয়সি দর্শকরা অজান্তেই সেটিকে বাস্তব জীবনে অনুসরণ করতে শুরু করে। ভালোবাসার নামে অধিকার ফলানো, সঙ্গীকে দমিয়ে রাখা বা সম্পর্কে টক্সিসিটি তৈরি হওয়াকে রোম্যান্টিক বলে ভুল করেন অনেকে।
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে সিনেমা মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তাই রোম্যান্সের মোড়কে এই বিষাক্ত মানসিকতা বা টক্সিক আচরণকে গ্ল্যামারাস করে তোলার প্রবণতা বদলানোর সময় এসেছে। পর্দায় ভালোবাসার সংজ্ঞা শুধু আধিপত্য বা জেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে ফুটিয়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সমাজ ও সম্পর্কের ভিত নড়িয়ে দিতে পারে।