মাঝ-আকাশে ককপিটে ছুরি নিয়ে হামলা! ইজরায়েলগামী বিমান ছিনতাই ও বিধ্বস্ত করার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

মাঝ-আকাশে দুই পাইলটের মধ্যে ভয়াবহ হাতাহাতি এবং রক্তার্ত ককপিট! দুবাই থেকে তেল আভিভগামী একটি বাণিজ্যিক বিমানে ঘটা এই রোমহর্ষক ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিমানটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিধ্বস্ত বা হাইজ্যাক করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত গতিপথ পরিবর্তন করে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয় এবং বড় ধরণের একটি বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঠিক কী ঘটেছিল মাঝ-আকাশে? সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সংস্থা ‘ফ্লাইদুবাই’-এর উড়ান এফজেড১০৭৩ (FZ1073) মোট ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে রওনা দিয়েছিল, যার বেশিরভাগই ছিলেন ইজরায়েলি নাগরিক। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমানটি জর্ডনের আকাশসীমায় থাকার সময় হঠাৎই একটি জরুরি সংকেত পাঠায়। এরপর মাত্র দুই মিনিটেরও কম সময়ে বিমানটি ১৭,৪00 ফুট নিচে নেমে আসে।
যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ককপিটের ভেতর থেকে চিৎকার এবং রক্তাক্ত দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। জানা গিয়েছে, পকেট-নাইফ বা ছোট ছুরি দিয়ে এক পাইলটকে আক্রমণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইজরায়েলি যাত্রীরা এবং বিমানকর্মীরা মিলে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, কো-পাইলটের দিকেই বিমানটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও নিরাপত্তা বৈঠক: ঘটনার পরই ইজরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম সতর্কতা জারি করে এবং যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখে। ইজরায়েলের কট্টর-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দাবি করেছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে ইজরায়েলিদের হত্যার একটি সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসী পরিকল্পনা ছিল। অন্যদিকে, ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং সমস্ত যাত্রী অক্ষত আছেন। যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং পুরো ঘটনার নেপথ্য সত্য উদঘাটনে ইজরায়েল ও সৌদি আরব প্রশাসনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।