‘রাজনীতির মঞ্চ ছেড়ে ধুতি-পাঞ্জাবীতে একেবারে অন্য অবতারে!’ পুজোর আগে কোন বিজেপি বিধায়কের গান নিয়ে শোরগোল?

সামনেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। শহর থেকে পাড়ার মণ্ডপ—সব জায়গাতেই এখন সাজো সাজো রব। উৎসবের এই প্রাক্কালে রাজনীতির পরিচিত মঞ্চ, আইনি লড়াই এবং প্রতিদিনের ব্যস্ততা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এক সম্পূর্ণ নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচী। রাজনৈতিক পোশাক ছেড়ে গায়ে জড়ালেন চিরাচরিত বাঙালি সাজ—ধুতি ও পাঞ্জাবি। শুধু তাই নয়, রাজনীতির চেনা বাইট ছেড়ে এ বার তাঁর মুখে শোনা গেল দেবীর বন্দনা ও পুজোর গান।
মন্দির থেকে গঙ্গার ঘাট, মিউজিক ভিডিওর শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত বিধায়ক: জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজো উপলক্ষে মা দুর্গাকে নিয়ে দুটি গান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করেছেন কৌস্তুভ। রবিবার সকালে সেই গানেরই ভিডিও শ্যুটে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় তাঁকে। কখনও ব্যারাকপুরের শিবশক্তি মা অন্নপূর্ণা মন্দিরের সামনে, কখনও আবার গঙ্গার ঘাটে এবং চলন্ত নৌকার ওপরে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছেন তিনি। সংগীতশিল্পী সৌম্য বসুর সুরে এই গানগুলিতে কেবল কণ্ঠই দেননি কৌস্তুভ, খোদ মিউজিক ভিডিওতেও প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। প্রথমে ভিডিওতে অভিনয়ের বিষয়ে কিছুটা রাখঢাক থাকলেও সৌম্য বসুর অনুরোধে শেষ পর্যন্ত রাজি হয়ে যান তিনি।
সুরের দুনিয়ায় স্বচ্ছন্দ কৌস্তুভ, কী বলছেন তিনি? রাজনীতির কঠিন সমীকরণের বাইরে গান যে তাঁর দীর্ঘদিনের অনুরাগ ও ব্যক্তিগত পছন্দের জায়গা, তা বহুবার স্পষ্ট করেছেন এই তরুণ নেতা। এর আগেও বিভিন্ন মঞ্চে তাঁকে গান গাইতে দেখা গিয়েছে। এই নতুন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কৌস্তুভের সোজাসাপ্টা বক্তব্য, “আমি গান গাইতে চিরকালই খুব ভালোবাসি। রাজনীতির পাশাপাশি গান আমার খুব প্রিয়। গান আমায় আনন্দ দেয়।” তাঁর মতে, রাজনীতির হাজারো চাপানউতোরের মাঝে সুরের জগত তাঁকে আলাদা এক মানসিক শান্তি জোগায়। একটি গান ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং অন্য গানটিও পুজোর আগেই মুক্তি পাওয়ার কথা। রাজনীতির অলিন্দ ছেড়ে পুজোর মরসুমে ব্যারাকপুরের বিধায়কের এই শিল্পিত রূপ এখন রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দারুণ কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।