‘সোনার রিল বানিয়েই সর্বনাশ!’ টাকার পাহাড় ও গয়না সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখাতেই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফুলয়েন্সারের বাড়িতে ১ কোটির চুরির কাণ্ড!

আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় আপডেট রিল বা ভিডিওর মাধ্যমে শেয়ার করাটা ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই অতিরিক্ত খতিয়ান দেওয়া যে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, তার এক মর্মান্তিক প্রমাণ মিলল কন্যাকুমারীতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপন, ঘরে থাকা নগদ টাকা এবং সোনার গয়না প্রদর্শনের খেসারত দিতে হলো এক জনপ্রিয় ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার মধুমিতাকে। তাঁর রিলগুলোর ওপর নজর রেখেই পরিকল্পনা কষেছিল চোরেরা, যার জেরে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে বেমালুম উধাও হয়ে গেল প্রায় এক কোটি টাকার সম্পত্তি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পদের প্রদর্শন ও চোরের নজর: কন্যাকুমারী জেলার নাগেরকয়েলের বাসিন্দা মধুমিতা তাঁর স্বামী বিনোদ কুমার ও পরিবারকে নিয়ে বেশ জাঁকজমকপূর্ণ জীবন কাটাতেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় থাকার সুবাদে তিনি নিয়মিত তাঁর রিল ও পোস্টে ঘরের সোনার গয়না, তোশকের ওপর রাখা টাকার बাণ্ডিল, এমনকি ছেলের ওপর টাকা বর্ষণ করার মতো ভিডিও শেয়ার করতেন। শুধু তাই নয়, প্রতি মাসে সোনা কেনার আপডেট কিংবা পরিবার নিয়ে কোথায় বাইরে যাচ্ছেন—তার সমস্ত নিখুঁত বিবরণ থাকত তাঁর প্রোফাইলে। আর এই অসাবধানতাই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

পরিবার বাইরে যেতেই ১ কোটির হাত সাফাই: গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরিবারকে নিয়ে জামাকাপড় কিনতে বাইরে গিয়েছিলেন মধুমিতা। গভীর রাতে বাড়ি ফিরে তাঁরা দেখেন শোবার ঘরের আলমারি ভাঙা এবং সমস্ত মূল্যবান জিনিসপত্র উধাও। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পেছনের দরজার তালা ভেঙে ঘরে ঢুকেছিল দুর্বৃত্তরা। চোরেরা বাড়ি থেকে প্রায় ১২০ ভরি সোনার গয়না, হিরার গয়না এবং নগদ ৫০, হাজার টাকা সহ মোট এক কোটি টাকার জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে।

তদন্তে নেমে পুলিশের সাইবার ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা মধুমিতার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখেন। তদন্তকারীদের স্পষ্ট অনুমান, ইনফ্লুয়েন্সারের রিল এবং নিয়মিত আপডেটের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রেখেই চোরেরা পরিবারের অনুপস্থিতির সঠিক সময়টি বেছে নিয়েছিল। এই ঘটনায় পুলিশ একটি বিশেষ দল গঠন করে তল্লাশি শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত জীবন বা সম্পত্তির এই বাড়াবাড়ি প্রদর্শন যে কতটা বিপদ ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তারই এক চরম সতর্কবার্তা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *