‘সিইও-র কণ্ঠ নকল করে এক ঝটকায় হাজার কোটি লোপাট!’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভয়ে শিউরে উঠছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক!

প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের পরিসর যে কতটা মারাত্মক জায়গায় পৌঁছেছে, তার এক চাঞ্চল্যকর উদাহরণ সামনে এল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তির ভয়েস ক্লোনিং বা কণ্ঠস্বর নকল করার মতো প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইতালির একটি প্রথম সারির বেসরকারি ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ইউরো অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১,০৩৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল একদল হ্যাকার বা প্রতারকদের বিরুদ্ধে। ইতালির বৃহত্তম ঋণদাতা ‘Intesa Sanpaolo’-র প্রাইভেট ব্যাঙ্কিং শাখায় ঘটে যাওয়া এই মেগা জালিয়াতির ঘটনায় বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।

যেভাবে ফাঁদ পাতে প্রতারকরা: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয় এই নিখুঁত চক্রান্ত। তৎকালীন চেয়ারম্যান পাওলো মোলেসিনি হোয়াটসঅ্যাপে একটি জরুরি বার্তা পান, যা দেখে মনে হয়েছিল সেটি খোদ সিইও কার্লো মেসিনার পাঠানো। সেই বার্তায় বিদেশে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেনের জন্য সাহায্য চাওয়া হয়। এর পরপরই একটি ফোন আসে এবং অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে এক নামী আইন সংস্থার অংশীদার বলে পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তদন্তে জানা যায়, প্রতারকরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই আইনজীবীর কণ্ঠস্বর নিখুঁতভাবে নকল করেছিল।

টাকা উদ্ধার ও তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: পুরো ঘটনাটিকে জলের মতো সত্যি ভেবে মোলেসিনি তাঁর অর্থ দফতরকে চিন ও হংকংয়ের বিভিন্ন বিদেশি অ্যাকাউন্টে একাধিক দফায় টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে অস্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত নজরে আসায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তৎপর হয়ে ওঠে। চিন, পর্তুগাল ও ইতালির আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় এর মধ্যে প্রায় ৫৩ মিলিয়ন ইউরো বা অর্ধেকের বেশি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বাকি প্রায় ৩৯২ কোটি টাকার হদিশ মেলেনি, যা একাধিক বিদেশি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘুরিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মিলানের প্রসিকিউটররা এক বিদেশি নাগরিককে চিহ্নিত করে তদন্ত শুরু করেছেন। ক্রমবর্ধমান এই AI জালিয়াতি রোধে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *