‘আমেরিকার সাবমেরিন আটকে দিল ইরান!’ হরমুজ প্রণালীতে চাঞ্চল্যকর হানায় কোন বড় তথ্য হাতিয়ে নিল তেহরান?

কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার একটি ড্রোন সাবমেরিন বা আনম্যানড আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল (UUV) আটকের দাবি করেছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) নৌবাহিনী জানিয়েছে, ‘রেমুস ৬০০’ (Remus 600) মডেলের এই অত্যাধুনিক সাবমেরিনটি ওই জলপথে মার্কিন সেনার গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে একটি জটিল অপারেশন চালিয়ে এটিকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে বলে দাবি তেহরানের। বর্তমানে মার্কিন সাবমেরিনের ভেতরের সমস্ত গোপনীয় তথ্য উদ্ধারের জন্য তা ইরানি সামরিক বিশেষজ্ঞদের হাতে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থান: এই ঘটনার পরেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে নিজেদের অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের কথা ফের স্পষ্ট করেছে আইআরজিসি। তারা সাফ জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং এই অঞ্চলে অননুমোদিত বা বিপজ্জনক কোনো জলযান চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেকারচি সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেন হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করার স্বপ্ন না দেখে। আমেরিকা যদি তা করে, তবে তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে এবং এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে হবে।

পিছু হটবে না তেহরান, ট্রাম্পের প্রস্তাব খারিজ: এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ৭ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামনে তেহরান বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। একদিকে মার্কিন গুপ্তচর সাবমেরিন আটক এবং অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরানের এই কঠোর হুঙ্কার বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *