‘ভয় না পেয়ে বুক ফুলিয়ে গীতা পড়ুন, দিন বদলেছে!’ সাধুদের অপমান নিয়ে বিস্ফোরক বার্তা কার?

কলকাতায় গীতা পাঠের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যবাসীকে নির্ভয়ে ও বুক ফুলিয়ে গীতা পাঠ করার বার্তা দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে রাজ্যে এখন সময় সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে, তাই কাউকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। পাশাপাশি, সম্প্রতি বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে হওয়া বিক্ষোভ এবং তাঁর কুশপুতুল পোড়ানোর ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে এই ধরনের অপচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
বাগেশ্বর বাবার বিক্ষোভ ও ‘টুকরে-টুকরে গ্যাং’-কে কড়া বার্তা: কলকাতার ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন যে কিছুদিন আগে নিজের ধর্ম প্রচার করতে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বা বাগেশ্বর বাবা কলকাতায় এসেছিলেন, তখন কিছু মানুষ তাঁর বিরোধিতায় নেমেছিল। সেই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি জানান, যারা এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, সেই ‘টুকরে-টুকরে গ্যাং’-এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা বিনা দ্বিধায় ঘরে ঘরে গীতা পাঠ করুন, কারণ বর্তমান সময়ে ভয়ের কোনো অবকাশ নেই।
ডিসেম্বরে ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের মেগা আয়োজন: অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে আগামী ২৯ ডিসেম্বরের একটি ঐতিহাসিক কর্মসূচির আগাম ঘোষণা করা হয়। বাউরি জাগরণ মঞ্চ এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই বিশাল গীতা পাঠের আসরে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত। সেখানে একসঙ্গে প্রায় দশ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রাজনীতি বা প্রশাসনিক দায়িত্বের ঊর্ধ্বে গিয়ে সম্পূর্ণ সনাতনী ভাবাবেগ থেকে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, বাগেশ্বর বাবার বাঙালি ও খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে এর আগে রাজনৈতিক মহলে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, এই অনুষ্ঠান থেকে তারও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।