এ কি কাণ্ড! বিমানবন্দর পৌঁছানোর পর জানলেন মেয়াদ শেষ? মাত্র ৮ মিনিটে হাতে নতুন পাসপোর্ট!

আপনার স্বপ্নের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ—ক্যাব বুক করা হয়ে গেছে, লাগেজ প্যাক করা এবং আপনি সময়ের আগেই পৌঁছে গেছেন বিমানবন্দরে। কিন্তু হঠাৎ চেক-ইন কাউন্টারে গিয়ে যদি আপনার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে এবং আপনি জানতে পারেন যে আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ প্রায় শেষ বা মাত্র এক মাস বাকি রয়েছে? স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে আপনার পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ার কথা, কারণ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেরই কড়া নিয়ম রয়েছে যে ভ্রমণের সময় পাসপোর্টের ন্যূনতম ৬ মাসের বৈধতা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু যদি কেউ আপনাকে বলে যে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণ নতুন একটি পাসপোর্ট আপনার হাতে চলে আসবে, তবে আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে?
সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই এক অবাক করা ঘটনা ভাইরাল হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বিমানযাত্রীদের নজর কেড়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই ভাইরাল খবরের আসল রহস্য এবং এর সঙ্গে ভারতের প্রচলিত পাসপোর্ট ব্যবস্থার কী তফাত রয়েছে।
মাত্র ৮ মিনিটে মিলল নতুন পাসপোর্ট:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক আমিরাতি যাত্রী বিদেশ যাত্রার ঠিক আগের মুহূর্তে বুঝতে পারেন যে তাঁর পাসপোর্টের মেয়াদ মাত্র এক মাস বাকি আছে। অথচ তিনি যে দেশে যাচ্ছিলেন, সেখানকার নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৬ মাসের মেয়াদ থাকা জরুরি ছিল। তবে ঘাবড়ে না গিয়ে তিনি সোজা চলে যান দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩-এ, যেখানে জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট নবীকরণের বিশেষ সুবিধা রয়েছে।
তাঁর ধারণা ছিল হয়তো ১০ মিনিট বা তার বেশি সময় লাগবে, কিন্তু সর্বাধুনিক ডিজিটাল এবং বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির কল্যাণে মাত্র ৮ মিনিটেই তাঁর হাতে নতুন পাসপোর্ট তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে এই ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে এবং নেটিজেনরা সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) এই অতি দ্রুতগতির সরকারি পরিষেবার ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
কীভাবে কাজ করে দুবাইয়ের এই হাই-টেক ব্যবস্থা?
ইউএসি সরকার বরাবরই তাদের নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল ও স্মার্ট গভর্নেন্সের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে থাকে। বর্তমানে দুবাই বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এবং পাসপোর্ট সংক্রান্ত পরিষেবাগুলিকে পুরোপুরি বায়োমেট্রিক ও ফেস রেকগনিশন প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। যদিও সাধারণ নিয়মে বা জরুরি নয় এমন ক্ষেত্রে কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা ও প্রমিত সময় কিছুটা বেশি হতে পারে, তবে বিমানবন্দরের এই বিশেষ ইমার্জেন্সি কাউন্টার প্রমাণ করে দিয়েছে যে সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তা যাত্রীদের কতটা স্বস্তি দিতে পারে।
ভারতেও কি এমন কোনো পরিষেবা রয়েছে?
আপনার যদি মনে প্রশ্ন জাগে যে ভারতের কোনো বিমানবন্দরেও কি অন-স্পট বা তৎক্ষণাৎ পাসপোর্ট রিন্যু করার এমন কোনো সুবিধা পাওয়া যায়, তবে এর উত্তর হলো—না। ভারতের বিমানবন্দরগুলিতে সরাসরি অন-স্পট পাসপোর্ট নবীকরণের কোনো ব্যবস্থা নেই। দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পাসপোর্ট তৈরি বা রিন্যু করাতে হয়।
সাধারণ প্রক্রিয়া: বিদেশ মন্ত্রকের সিটিজেনের নিয়ম অনুযায়ী, যদি আপনার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন না থাকে, তবে সাধারণত ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায়। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হলে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে।
তৎকাল স্কিম: যদি অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন হয়, তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ‘তৎকাল পাসপোর্ট যোজনা’র সুবিধা দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র জমা দিয়ে এবং যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে ১ থেকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব।
দুবাইয়ের এই ৮ মিনিটের আকস্মিক ঘটনাটিকে ভারতের সাধারণ বা তৎকাল ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা চলে না, কারণ সেটি ছিল একটি বিশেষ জরুরি পরিষেবা। তা সত্ত্বেও এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দেয় যে, ডিজিটাল আধুনিকীকরণ যেকোনো দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে কতটা দ্রুত ও কার্যকরী করে তুলতে পারে।