পাগলা ঘোড়ার তাণ্ডব! রাস্তায় ফেলে মহিলাকে কামড়ে মাংস তুলে নিল বেওয়ারিশ ঘোড়া, চাঞ্চল্য কানপুরে

উত্তরপ্রদেশের কানপুর জেলায় এক হিংস্র ও পাগলা ঘোড়ার তাণ্ডবে রীতিমতো ত্রস্ত হয়ে পড়লেন সাধারণ মানুষ। সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত চলা এই আতঙ্কে এক মহিলা সহ একাধিক ব্যক্তি গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পথচলতি এক মহিলা ও পুরুষকে তাড়া করে বেধড়ক কামড়ে মারাত্মক জখম করে ওই ঘোড়াটি। বর্তমানে গুরুতর জখম হওয়া ওই মহিলাকে কানপুরের একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে কানপুরের চকেরি থানার অন্তর্গত শনিগওয়া (सनी गांव) এলাকায়। ওই এলাকার বাসিন্দা আহমেদ নামের এক ব্যক্তির একটি চায়ের দোকান রয়েছে, যা তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত। গত সোমবার দের সন্ধ্যায় তাঁর ৪৫ বছর বয়সি স্ত্রী আফসানা স্বামীর জন্য রাতের খাবার নিয়ে দোকানে গিয়েছিলেন। কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথেই হঠাৎ একটি বেওয়ারিশ ঘোড়া তাঁকে তাড়া করে।

প্রাণ বাঁচাতে মহিলাটি দৌড়ানোর চেষ্টা করলেও হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে যান। সেই সুযোগেই হিংস্র হয়ে ওঠা ঘোড়াটি তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাথাড়ি কামড়াতে শুরু করে। মহিলার দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে এসে কোনোমতে ঘোড়াটিকে তাড়িয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরিবারের লোকজন দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে কাশীরাম হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে হ্যালটে হাসপাতালে রেফার করে দেন। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহিলার হাত, পা ছাড়াও শরীরের অন্যান্য সংবেদনশীল অংশেও ঘোড়াটি কামড়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। তবে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন ও হুঁশেই রয়েছেন।

স্থানীয়দের মারাত্মক অভিযোগ:
এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এর আগেও ওই একই পাগলা ঘোড়ার আক্রমণের শিকার হয়েছেন একাধিক মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা রহমত এবং বাবুলাল কনৌজিয়া নামের দুই ব্যক্তিকেও অতীতে একইভাবে তাড়া করে কামড়ে দিয়েছিল ওই ঘোড়াটি। রহমতের পেটে কামড়ে গুরুতর জখম করেছিল সে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘোড়াটি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বা ‘পাগল’ হয়ে যাওয়ায় তার মালিক ইচ্ছে করেই তাকে দিনের পর দিন রাস্তায় छुट्टा বা ছেড়ে রেখে দিয়েছিলেন।

ঘোড়ার রহস্যমৃত্যু:
জানা গেছে, সোমবার রাতে চরম আতঙ্ক ছড়ানোর পর শনিগওয়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল সেই হিংস্র ঘোড়াটি। মঙ্গলবার সকালে ওই একই জায়গায় সেটিকে মৃত অবস্থায উদ্ধার করা হয়। ঘোড়ার মৃত্যুর খবর চাউর হতেই স্থানীয় মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। ইতিমধ্যে মৃত ওই পশুর মালিককে চিহ্নিত করতে জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পুরো ঘটনার আইনি তদন্ত চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *