জাতীয় সংগীতের পর এবার জাতীয় গীতেও সংঘাত! মাত্র ২ পদ গাওয়ার সরকারি আদেশে হাইকোর্টে বড় ধাক্কা?

জাতীয় সংগীতের পর এবার জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন নিয়ে চরম রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাত শুরু হলো কর্নাটকে। সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় গীতের মাত্র দুটি পদ গাওয়ার রাজ্য সরকারের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি কর্ণাটক হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের হয়েছে। এই মামলা ঘিরে বর্তমানে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক তর্জা শুরু হয়েছে, যার জল গড়াতে পারে অনেকদূর।

ঠিক কী নির্দেশ দিয়েছিল কর্নাটক সরকার?
চলতি মাসের ৩ তারিখে রাজ্য মন্ত্রিসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং গত ৮ সেপ্টেম্বর কর্ণাটকের কর্মী ও প্রশাসনিক সংস্কার বিভাগ এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকা জারি করে। সেই নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, রাজ্যের সাধারণ সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে এখন থেকে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ রূপের পরিবর্তে কেবল প্রথম দুটি পদই গাওয়া হবে। তবে রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্যপালের মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানগুলিতেই কেবল গানটির পুরো সংস্করণ গাওয়ার নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলা হয়েছে যে, অনুষ্ঠানগুলিতে একরূপতা, সুনির্দিষ্ট গরিমা এবং প্রোটোকল বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ১৯৩৭ সালের কংগ্রেসের পুরোনো ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক অবস্থানকেই টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট রয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার।

কেন শুরু হয়েছে বিরোধ?
এই বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো কেন্দ্র বনাম রাজ্যের সাংবিধানিক সংঘাত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চলতি বছরের জুলাই মাসে জারি করা নির্দেশিকায় পরিষ্কার বলা হয়েছে যে, যখনই জাতীয় গীত গাওয়া হবে, তখন এর সমস্ত ছটি পদ বা পূর্ণাঙ্গ সংস্করণই পরিবেশন করা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রীয় এই নির্দেশ কড়াকড়িভাবে পালন করা হচ্ছে। কিন্তু কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারের এই নির্দেশ সরাসরি কেন্দ্রের সেই গাইডলাইনের পরিপন্থী বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাইকোর্টে দায়ের হওয়া PIL-এ কী বলা হয়েছে?
আদালতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় জোরালো সওয়াল করা হয়েছে যে, জাতীয় গীত বা জাতীয় প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়গুলি কোনোভাবেই রাজ্যের একচ্ছত্র বা স্বতন্ত্র বিষয় হতে পারে না। এটি সরাসরি ভারতীয় সংসদের একচ্ছত্র অধিকার ক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে। মামলার আবেদনকারীর যুক্তি, একমাত্র নির্বাহী আদেশের জোরে রাজ্য সরকার জাতীয় গীতের প্রথাগত বা নির্ধারিত রূপ বদলে ফেলতে পারে না। কর্নাটকের এই নির্দেশ একদিকে যেমন কেন্দ্রের স্পষ্ট নির্দেশিকার স্পষ্ট লঙ্ঘন, তেমনই তা সংবিধানের একাধিক মূল বিধান এবং জাতীয় সম্মান রক্ষা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনেরও সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

সব মিলিয়ে, আদালতের আজকের সম্ভাব্য শুনানির দিকেই এখন গোটা দেশের নজর আটকে রয়েছে। কর্নাটক সরকারের এই একক সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে কতটা টিকে থাকে এবং এর জেরে জাতীয় রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *