জ্বালানির উত্তাপে হু হু করে নামল সোনা-রুপোর দাম, সুযোগ মিস করলেই পস্তাবেন

ধনতেরাস ও উৎসবের মরশুমের আগেই আমজনতা ও সোনা ক্রেতাদের জন্য বিরাট সুখবর! দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বড়সড় ধস নামল সোনা ও রুপোর দামে। দিল্লি, মুম্বই থেকে শুরু করে তিলোত্তমা কলকাতা— এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে বহুমূল্য এই দুই ধাতুর দর। বিশ্ব বাজারে উল্লেখযোগ্য দরপতনের পর দেশীয় ফিউচার ও রিটেইল বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
কমোডিটি বাজারে (MCX) বড় পতন:
ফিউচার মার্কেটে বা মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) দরপতনের ছবি অত্যন্ত স্পষ্ট। ৫ অক্টোবরের ফিউচার চুক্তি অনুযায়ী, ১০ গ্রাম সোনার দাম মেয়াদে ২৩০ টাকা কমে ১,৫১,০০০ টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে, রুপোর দামেও ব্যাপক ধস নেমেছে। প্রতি কেজিতে এক ধাক্কায় ১,৩০০ টাকা কমে বর্তমানে ২,৩১,৩০০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে রুপো।
কলকাতা সহ প্রধান শহরগুলিতে আজকের রেট:
রিটেইল বাজারে ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনার দাম শহরভেদে প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বিভিন্ন শহরের আজকের বাজার দর:
-
কলকাতা: তিলোত্তমায় আজ ২৪ ক্যারেট (৯৯.৯% বিশুদ্ধ) সোনার দাম গ্রাম প্রতি ১৫,৩১৭ টাকা। ২২ ক্যারেট (৯১.৬% বিশুদ্ধ) গহনা সোনা বিকোচ্ছে ১৪,০৪০ টাকা প্রতি গ্রামে। এছাড়া ১৮ ক্যারেট সোনা মিলছে ১১,৪৮৮ টাকায়। কলকাতায় আজ কেজি প্রতি রুপোর দর ২,৪৫,০০০ টাকা (প্রতি গ্রাম ২৪৫ টাকা)।
-
দিল্লি ও লখনউ: ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৫৪,২৩০ টাকা (১০ গ্রাম), ২২ ক্যারেট ১,৪১,৩৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট মিলছে ১,১৫,৭১০ টাকায়।
-
মুম্বই: ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৫৪,০৮০ টাকা, ২২ ক্যারেট ১,৪১,২৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১,১৫,৫৬০ টাকা।
-
পাটনা: ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৫৪,১৩০ টাকা, ২২ ক্যারেট ১,৪১,২৯০ টাকা ও ১৮ ক্যারেট বিকোচ্ছে ১,১৫,৬১০ টাকায়।
আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দা:
শুধু ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও একই ছবি। বিশ্ব বাজারে সোনার দাম ০.৩৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪,৩৩৬.৪২ ডলারে এসে ঠেকেছে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে রুপোর দামও ০.৬০ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৬৩.৭৭৫ ডলারের আশেপাশে নেমে এসেছে।
কেন হঠাৎ এই দরপতন?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম টানা বাড়তে থাকা অন্যতম বড় কারণ। তেলের চড়া দামের কারণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ এবং ‘ব্যাঙ্ক অফ জাপান’ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সাধারণত ব্যাংকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হলে সোনা ও রুপোর ওপর বিনিয়োগকারীদের চাপ বাড়ে এবং তা ধাতুর দামে পতন ঘটায়।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: সোনা বা রুপোয় যে কোনো ধরণের বিনিয়োগ করার পূর্বে আপনার নিজস্ব আর্থিক উপদেষ্টার মতামত ও পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।)