JNU থেকে UPSC ৮৫ র্যাঙ্ক, কে এই ‘আইরোন লেডি’? যাঁর হুংকারে কাঁপে জঙ্গিরা!

ভারতীয় সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর ইতিহাসে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব স্বর্ণালী অধ্যায়। কেন্দ্রীয় সিআরপিএফ (CRPF)-এর অতি সংবেদনশীল ও এলিট গরিলা যুদ্ধ ইউনিট ‘কোবরা’ (CoBRA)-র ইন্সপেক্টর জেনারেল (IG) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন ২০০৬ ব্যাচের তুখোড় আইপিএস অফিসার সংযুক্তা পরাশর। ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো মহিলা আইপিএস অফিসারকে ভারতের এই সর্বোচ্চ জঙ্গলযুদ্ধ ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ বাহিনীর কমান্ডিং পজিশনে বসানো হলো।
‘কোবরা’ বাহিনীর গুরুত্ব এবং নতুন নেতৃত্ব:
CoBRA বা ‘কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ফর রেজোলিউট অ্যাকশন’ ভারতের সেই এলিট ফোর্স, যা মূলত মাওবাদী দমন, ঘন জঙ্গলে অ্যামবুশ, ভয়াবহ বিস্ফোরক বা আইইডি (IED) নিষ্ক্রিয় করা এবং সরাসরি নিখুঁত টার্গেটেড অপারেশনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশার মতো চরম সংকটপূর্ণ ও দুর্গম এলাকাগুলিতে জীবন বাজি রেখে কাজ করেন এই বাহিনীর কমান্ডোরা। সিআরপিএফের বেছে বেছে সেরা যোদ্ধাদের নিয়ে গড়ে তোলা এই বাহিনীর শীর্ষ দায়িত্বে সংযুক্তা পরাশরের নিয়োগ দেশকে এক নয়া বার্তা দিল।
কেন বলা হয় ‘আসামের আয়রন লেডি’?
কর্মজীবনের শুরু থেকেই অসমের মারাত্মক জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী অধ্যুষিত ঘন জঙ্গল এলাকায় হাতে একে-৪৭ (AK-47) নিয়ে নিজে ফ্রন্টলাইনে দাঁড়িয়ে অপারেশন পরিচালনা করেছেন সংযুক্তা। আসামের বোডো জঙ্গি দমন অভিযানে তাঁর নির্মম ও নির্ভীক ভূমিকা তাঁকে রাজ্যজুড়ে ‘আয়রন লেডি অফ আসাম’ পরিচিতি এনে দেয়। একের পর এক হাই-প্রোফাইল জঙ্গি দমন ও আসামের জটিল ভৌগোলিক পরিবেশে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই তাঁকে দেশের এই এলিট ফোর্সের শীর্ষে নিয়ে এসেছে।
জেএনইউ থেকে ইউপিএসসি-তে বাজিমাত:
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামজাদা ইন্দ্রপ্রস্থ কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক করার পর মর্যাদাপূর্ণ জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন সংযুক্তা। ২০০৬ সালে সর্বভারতীয় ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষায় মাত্র ৮৫তম স্থান লাভ করে আইএএস ক্যাডার পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, নিজের পছন্দের আইপিএস (IPS) সার্ভিসকেই বেছে নেন তিনি।
এনআইএ (NIA)-র বহুমুখী অভিজ্ঞতা:
শুধুমাত্র ফিল্ড গ্রাউন্ডের জঙ্গলযুদ্ধই নয়, প্রশাসনিক ও কৌশলগত তদন্তেও তিনি অনন্য। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-তে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (DIG) হিসেবে বেশ কিছুদিন দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন, ইন্টার-এজেন্সি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং মেধাভিত্তিক তদন্তে তাঁর অগাধ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বর্তমান সময়ের আধুনিক গেরিলা যুদ্ধ বা জঙ্গলযুদ্ধে কেবল বুটের শব্দ বা অস্ত্রের ঝনঝনানি নয়, বুদ্ধিমত্তা ও সঠিক তথ্যের সময়োপযোগী ব্যবহারই মুখ্য। এনআইএ-র সুনির্দিষ্ট কৌশলগত মেধা এবং আসামের গভীর জঙ্গলে বছরের পর বছর লড়া প্রত্যক্ষ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা—এই দুয়ের অসাধারণ সংমিশ্রণে ‘কোবরা’ বাহিনীকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন সংযুক্তা পরাশর, এমনটাই আশা প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের।