মাছ-মাংস বিতর্ক থেকে বাংলার নতুন ল্যান্ড পলিসি! কলকাতার মেগা সামিটে আর কী বার্তা দিলেন বিজেপি সভাপতি?

কলকাতার বুকে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল তারকাখচিত ‘রাইজিং ভারত সামিট’ (Rising Bharat Summit)-এর ইস্ট এডিশন। শনিবারে অনুষ্ঠিত এই হাই-প্রোফাইল আসরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন রাজ্যের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। এদিনের এই মেগা মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, শিল্প-বাণিজ্য, ল্যান্ড পলিসি এবং সামাজিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সম্পূর্ণ খোলামেলা মেজাজে বক্তব্য রাখেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজনৈতিক শালীনতা ও আদর্শের কথা তুলে ধরে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান যে, শাসক দলের প্রতিনিধি হওয়া মানেই অন্ধের মতো বিরোধী দলের সমস্ত ভালো কাজের বিরোধিতা করা হতে পারে না। এই সংকীর্ণ মানসিকতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে বলেই মত প্রকাশ করেন তিনি। এর পরেই বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পূর্বতন সরকারের আমলে কোনো সুনির্দিষ্ট ল্যান্ড পলিসি বা শিল্পবান্ধব নীতি ছিল না। বর্তমান সরকারের জমানায় নতুন ল্যান্ড পলিসি আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং রাজ্যের সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিস্থিতির বদল ঘটায় বহু ব্যবসায়ী এখন নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন। সরকারের এই পরিবর্তনের পেছনে সাধারণ মানুষের অবদানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “সরকার আমি বানাইনি, সরকার জনতা বানিয়েছে।” তৃণমূলের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরা প্রসঙ্গে এক বেনজির আক্রমণ শানিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, অনুপম খেরের মাথায় চুল গজাতে পারে, কিন্তু পুরোনো সরকার আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।
বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে রাজ্যে গণেশ পুজোর এত প্রচলন না থাকলেও এখন তা উৎসবের রূপ নিয়েছে। একই সঙ্গে মঞ্চ থেকেই সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসার বড় ঘোষণা করা হয়। তবে শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন বা জামাকাপড় বদল নয়, রাজনীতিক ও সমাজ জীবনের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার বলে সওয়াল করেন তিনি। রাজনীতিতে ব্যক্তিপুজোর অন্ধ সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, ব্যানার-পোস্টারে নেতাদের ছবি দেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে বিদ্যাসাগর বা নেতাজির মতো মহান ব্যক্তিত্বদের আদর্শ ও ছবি সামনে আনা উচিত।
ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করার ওপর জোর দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, কেবল খাতাপুজো বা নামমাত্র পুজো করলে চলবে না, ব্যবসায়ীদের সম্পূর্ণ শান্তিতে ব্যবসা করার পরিবেশ দিতে হবে। যদিও সিন্ডিকেট রাজ অনেকখানি কমেছে, তবুও কিছু জায়গায় এর অস্তিত্ব রয়ে গেছে যা সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা দরকার। বেকারত্ব ও বর্তমান সময়ের বিভিন্ন বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের কোনো মানে হয় না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর—সকলেই মাছ ভালোবাসতেন। তাই খাদ্যাভ্যাস নিয়ে রাজনীতি না করে বাংলার যুবসমাজকে কর্মসংস্থান ও কাজের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।