জিজ্ঞাসাবাদে সব কবুল! রাজনৈতিক যোগ থেকে কোটি টাকার লেনদেন—সিআইডির জালে বড়সড় চাঞ্চল্য!

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে জমির দালালি—একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে ধৃত সুমিত রায়কে ঘিরে তদন্তে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য হাতে পাচ্ছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)। শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার হওয়ার পর এবার তাঁকে জেরা করে চক্রের শেকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে তৎপর তদন্তকারীরা। আদালতে পেশ করা সিআইডির নথিতে দাবি করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের মুখে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ধৃত সুমিত। পাশাপাশি, তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের খুঁজে বের করতে এবং আর্থিক লেনদেনের গতিপথ খতিয়ে দেখতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে।
স্ক্যানারে সন্দেহজনক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: তদন্তে নেমে সিআইডির স্পেশাল টিম জানতে পেরেছে, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা হয়েছিল। বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্টটির সমস্ত লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোন কোন সূত্র থেকে এবং কাদের মাধ্যমে ওই অ্যাকাউন্টে এত টাকা আসত, টাকার আসল উৎস কী ছিল এবং সেই টাকা পরবর্তী সময়ে কোথায় বা কার অ্যাকাউন্টে পাচার করা হয়েছিল—তাঁদের একটি নিখুঁত তালিকা তৈরি করছেন তদন্তকারীরা।
কাদের ইশারায় চলত এই সিন্ডিকেট? সিআইডির মূল লক্ষ্য এখন এই অপরাধমূলক চক্রের মূল মাথাকে খুঁজে বের করা। তদন্তকারীদের নজরে মূলত কয়েকটি বড় প্রশ্ন রয়েছে: ঠিক কার বা কাদের নির্দেশে সুমিত এই সমস্ত কাজকর্ম চালাতেন? সেই নির্দেশ আসলে কোথা থেকে আসত? এবং এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারিতে তাঁর ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা ঠিক কী ছিল? এই সমস্ত প্রশ্নের সদুত্তর পেতেই তাঁকে ফের হেফাজতে নেওয়ার জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে।
মেদিনীপুর আদালতে পেশ ও ইডির নজর: এদিন সুমিত রায়কে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে সিআইডি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এর আগে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে চাননি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অন্যদিকে, সিআইডির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি (ED)-র নজরেও রয়েছে এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি। এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি তাঁকে তলব করেছিল। তাছাড়া, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলার তদন্তেও তাঁর নাম উঠে আসায় আগামী দিনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিতে পারে বলে জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছে।