দুর্গাপুজোয় ভোগের থালি সাজানোর এই সহজ নিয়মগুলো জানেন কি? একটু ভুলেই পণ্ড হতে পারে সমস্ত আয়োজন!

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, হইচই, নতুন পোশাক আর তার সঙ্গে জমজমাট পেটপুজো। প্যান্ডেল হপিংয়ের ক্লান্তি দূর করতে এবং উৎসবের আমেজ পুরোপুরি উপভোগ করতে সুস্বাদু খাবারদাবার অপরিহার্য। তবে শুধু সুস্বাদু পদ রান্না করাই শেষ কথা নয়, সনাতন ঐতিহ্য ও নিয়ম মেনে সেই খাবার সঠিকভাবে পরিবেশন করাটাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রোজকার রান্নার থেকে পুজোর ভোগের স্বাদ ও তার সাজ সম্পূর্ণ আলাদা হয়, যা ঘরের অন্দরে এনে দেয় এক অন্য নস্টালজিক আমেজ।

হিন্দু রান্নার ঐতিহ্য ও শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুসারে, খাবার পরিবেশনের কিছু সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। অতিথি বা পরিবারের সদস্যরা আসনে বসার পরই খাবার পরিবেশন শুরু করা উচিত। প্রথা অনুযায়ী, থালি বা বড় প্লেটের ঠিক মাঝখানে ভাত বা পোলাও রাখা হয়। এর পর ভাজা, ফল, শুকনো সবজি বা ভাজির মতো শুকনো পদগুলি রাখতে হবে থালির ঠিক নীচের ডানদিকে। আর প্লেটের উপরের ডানদিকে সমস্ত রকমের গ্রেভিযুক্ত তরকারি এবং যেসব মিষ্টিতে রস রয়েছে, সেগুলি সাজিয়ে দিতে হবে।

অন্যদিকে, ভাতের ঠিক উপরের বাম দিকে চাটনি, দই, পাপড় কিংবা স্যালাড পরিবেশন করার নিয়ম। এর পাশাপাশি গুড় দিয়ে তৈরি পদ, আচার বা হালুয়ার মতো সুস্বাদু মিষ্টান্ন রাখতে হবে ভাতের ঠিক সামনে। খাবারের থালিতে লেবু এবং নুন রাখা অত্যন্ত আবশ্যিক, যা ভাতের সামনেই পরিবেশন করা উচিত।

খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রেও কিছু প্রাচীন নিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্নান করে পরিষ্কার ও ধোয়া কাপড় পরে, হাত ও মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে তবেই খাবার গ্রহণ করা উচিত। এর পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ির পোষ্য বা পশু-পাখিদের খাবার দেওয়ার পরই পরিবারের সদস্যদের খেতে বসা উচিত। খাওয়ার শুরুতে সর্বশক্তিমান দেবতা এবং পূর্বপুরুষদের প্রতি ছোট একটি প্রার্থনা বা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে তবেই থালিতে হাত দেওয়া ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির অঙ্গ। পুজোয় এই সমস্ত ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে থালি সাজালে যেমন মন জুড়োবে, তেমনই বজায় থাকবে আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *