প্রধান শিক্ষককে রক্তাক্ত করার সেই ভয়ংকর কাণ্ড! মুখ ঢেকে জুভেনাইল বোর্ডে তোলা হলো অভিযুক্ত ৪ ছাত্রকে।

জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে রক্তাক্ত করার বিভীষিকাময় ঘটনায় তোলপাড় গোটা রাজ্য। শিক্ষাঙ্গনে এমন অভাবনীয় ও হিংসাত্মক হামলায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষাবিদরা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অবশেষে বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। শনিবার শিক্ষক নিগ্রহে অভিযুক্ত চার ছাত্রকে আটক করে, আইনি সুরক্ষাবিধি মেনে মুখ ঢেকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ করল কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

গত মঙ্গলবার স্কুলের ভিতরেই একদল উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রের হাতে নির্মমভাবে আক্রান্ত হন প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুই। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর মাটিতে লুটিয়ে পড়ার সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য সমাজমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে রাজ্যজুড়ে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শুক্রবারই সরাসরি জেলা স্কুলে পৌঁছন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। তিনি কড়া বার্তা দিয়ে স্পষ্ট জানান, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও হিংসা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অভিযুক্ত ছাত্রদের অবিলম্বে স্কুল থেকে টিসি (TC) দিয়ে বহিষ্কার করা হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি। মন্ত্রীর পরিদর্শনের পরই আহত প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুই কোতোয়ালি থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ এবং দ্রুত অভিযানে নামে।

শনিবার সকালে চার অভিযুক্ত ছাত্রকে আটক করে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ করা হয়। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর অভিযুক্ত এক ছাত্রের অভিভাবক রাখী দাস কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, “ও কখনও শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার বা কথা বলেনি। হঠাৎ করে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা কিছুতেই ভেবে উঠতে পারছি না। সরকারের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, বিষয়টি বিবেচনা করে ক্ষমা করে দেওয়া হোক।” তবে স্কুলের পবিত্র প্রাঙ্গণে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবিই তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *