ভোর ৪টে পর্যন্ত ম্যারাথন বৈঠক! প্রধানমন্ত্রী মোদির মাস্টারস্ট্রোকের জেরে ব্রিকসে এল বিরাট সাফল্য!

ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের মঞ্চে আরও একবার ভারতের মুকুটে যুক্ত হল নতুন কূটনৈতিক সাফল্যের পালক। ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত দু’দিনের এই বিশ্বমানের শীর্ষ সম্মেলনে বড়সড় কূটনৈতিক জয় পেল ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঐতিহাসিক ঘোষণা করে জানিয়েছেন যে, বহু টানাপোড়েন ও দীর্ঘ আলোচনার পর ‘ব্রিকস জয়েন্ট ডেক্লারেশন ২০২৬’ বা ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ সম্পূর্ণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে। সদস্য কোনো দেশই এর কোনো বিষয় নিয়ে আপত্তি জানায়নি, যা ভারতের নেতৃত্ব ক্ষমতার এক বিরাট স্বীকৃতি।

সম্মেলনের সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, আজকের আলোচনা থেকে একথা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বিশ্বকে পুরনো ও সনাতন প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আর পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বৈশ্বিক স্তরে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব, দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং নিয়ম প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমূল সংস্কার এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। বিশেষ করে ভবিষ্যত প্রযুক্তির বিকাশ এবং তার নিয়ম নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্লোবাল সাউথ বা ‘বিশ্ব দক্ষিণ’-এর দেশগুলির সমান অংশগ্রহণের ওপরও সমস্ত পক্ষ জোর দিয়েছে বলে জানান তিনি।

কূটনৈতিক সাফল্য ও গভীর রাতের ম্যারাথন আলোচনা: রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ, ব্রিকস-এর সম্প্রসারিত সদস্য দেশগুলির—যেমন ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির—মধ্যে বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে তীব্র মতপার্থক্য ছিল। ইরান চেয়েছিল ঘোষণাপত্রে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলা এবং পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার কড়া নিন্দা করা হোক। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দাবি ছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রসঙ্গও যেন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।

এই চরম মতপার্থক্য ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা ভারতের সামনে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গভীর রাত ছাপিয়ে ভোর ৪টে পর্যন্ত একটানা চলে ম্যারাথন আলোচনা। ভারতের নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সমস্ত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’? নয়াদিল্লি ঘোষণায় একতরফা জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। পাশাপাশি, বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাত ও পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং আঞ্চলিক সংঘাতের আবহে ব্রিকস মঞ্চে সমস্ত সদস্য দেশের একাসনে বসা এবং পূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছানো বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও আস্থারই প্রতীক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *