পুরসভায় কাজ করেন না কেউ, শুধু বেতনের দিন মুখ দেখান! মালদায় এই বিশাল কেলেঙ্কারির কথা জানলে চমকে যাবেন।

অনুমোদন রয়েছে মাত্র ৫১৭ জনের, অথচ খাতায়-কলমে অস্থায়ী কর্মী কাজ করছেন ১৬০৪ জন! কে কোথায় কাজ করছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনও হিসাব নেই আধিকারিক বা জনপ্রতিনিধিদের কারোর কাছেই। মালদার ইংরেজবাজার পুরসভার এই বিশাল মাপের বেআইনি ও ‘ভূতুড়ে’ কর্মী নিয়োগের ঘটনায় এখন রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পেকেছে।

জানা গিয়েছে, পুরসভার এই অস্বচ্ছ ও বেআইনি নিয়োগের বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ করে জেলা প্রশাসন। গত বুধবারের মধ্যে এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ও রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পুর কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে বা পরিকল্পিতভাবে, যে দিন রিপোর্ট জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল, ঠিক সেই দিনই নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। ফলে নির্ধারিত সময়ে জেলা প্রশাসনের কাছে সেই কাঙ্ক্ষিত তথ্য পৌঁছয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে এই বিষয়ে কঠোর জবাবদিহি চাওয়া হবে।

পুরসভা সূত্রে খবর, এই অবৈধ নিয়োগের সংস্কৃতি চলে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। বাম আমল থেকেই শুরু হওয়া এই প্রবণতায় যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে, তারাই নিজেদের ঘনিষ্ঠ ও দলীয় কর্মীদের অস্থায়ী কর্মী হিসেবে পুরসভায় ঢুকিয়েছে। এর মধ্যে এমন অনেক কর্মী রয়েছেন, যাঁরা কোনোদিন পুরসভার দপ্তরে পা-ই রাখেন না। কেবল বেতনের দিন তাঁদের দেখা মেলে। বাকি সময় তাঁরা রাজনৈতিক দলের কাজ কিংবা কাউন্সিলরদের বাড়িতে বাজার করা, ছেলেমেয়েদের স্কুলে আনা-নেওয়ার মতো ব্যক্তিগত কাজ করেন।

সবচেয়ে বেশি ভুয়ো কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে সাফাই বিভাগে, যার সংখ্যা এক হাজারের বেশি। নিয়মানুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে ৪-৫ জন সাফাইকর্মী ও একজন জমাদার থাকার কথা থাকলেও, বর্তমানে ওয়ার্ডগুলিতে সাফাইকর্মীর চেয়ে জমাদারের সংখ্যাই বহুগুণ বেশি! অন্যদিকে, পাম্প হাউস বা মাতৃসদনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলিতে যেখানে পর্যাপ্ত স্থায়ী কর্মী নেই, সেখানে এই যত্রতত্র অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ নিয়ে জনমানসে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পুরসভার এক কাউন্সিলার সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন, ভোট রাজনীতির বেড়াজালে গরিব বেকার যুবকদের চাকরির ব্যবস্থা করতেই এই পথে হাঁটতে হয়। তবে এই বিপুল অনিয়ম নিয়ে জেলা প্রশাসন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করায় এবং চেয়ারম্যান ইস্তফা দেওয়ায় ইংরেজবাজার পুরসভার অন্দরে এখন চরম অস্থিরতা ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *