পিএ-র বাড়িতে ED, কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর!

ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তল্লাশি এবং বিপুল অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনার পরই কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত। ২০১৬ সালের সাবঅর্ডিনেট সার্ভিস সিলেকশন কমিশন (UKSSSC) নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও অর্থ পাচারের মামলার তদন্তের জেরে এই রাজনৈতিক পদত্যাগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ইস্তফার নেপথ্যের কারণ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি সম্প্রতি দেরাদুনের একাধিক ঠিকানায় অভিযান চালায়। এর মধ্যে হরিশ রাওয়াতের ব্যক্তিগত সহকারী (PA) চন্দন সিংহ জিনার বাড়িও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইডির দাবি, তল্লাশির সময় জিনার বাড়ি থেকে ৩২ লক্ষ টাকা নগদ, প্রায় ২০০.৫ গ্রাম সোনা এবং ১২টি দামি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি জিনা ও তাঁর পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৫২.১৬ লক্ষ টাকাও ফ্রিজ করা হয়েছে। এই ঘটনার পরেই সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে রাওয়াত জানান, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিতর্কের কারণে কংগ্রেসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই যাতে দুর্বল না হয়, সেই সুবাদেই তিনি উত্তরাখণ্ড প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য—এই দুটি পদ থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলার পটভূমি ২০১৬ সালের UKSSSC গ্রাম পঞ্চায়েত বিকাশ আধিকারিক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর উত্তরাখণ্ড পুলিশ ও ভিজিল্যান্স ব্যুরো চারটি এফআইআর দায়ের করেছিল। তার ভিত্তিতেই পরে মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের মামলা শুরু করে ইডি। তদন্তে উঠে এসেছে যে পরীক্ষার ওএমআর (OMR) উত্তরপত্রগুলি নিরাপদ হেফাজত থেকে সরিয়ে তৎকালীন সচিবের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জালিয়াতি করা হয়েছিল। অভিযুক্ত চন্দন সিংহ জিনা ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হরিশ রাওয়াত মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (OSD) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

কী প্রতিক্রিয়া রাওয়াতের? এক্স হ্যান্ডলে এবং সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হরিশ রাওয়াত জানিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিশ্বাস করা কঠিন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জিনা যদি সত্যিই এই নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং তার প্রমাণ মেলে, তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত লজ্জিত হবেন। আসন্ন ভোটের আগে তাঁকে বা তাঁর দলীয় অবস্থানকে কেন্দ্র করে কোনো রাজনৈতিক অপপ্রচার বা ন্যারেটিভ তৈরির সুযোগ দিতে চান না বলেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাহুল গান্ধীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান লড়াইকে অগ্রাধিকার দিয়েই তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ালেন বলে জানিয়েছেন এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *